মোবাইল ফোনে রিংটোন, ওয়েলকাম টোন ও সব ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভাস) হিসেবে ভারতীয় হিন্দি, বাংলা এবং উপমহাদেশের যে কোনও দেশের সিনেমার গান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার রিটে পক্ষভুক্ত হয়েছে মোবাইল ফোনভিত্তিক ভারতীয় কনটেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘হাঙ্গামা’ (বাংলাদেশ) প্রাইভেট লিমিটেড।
অভিযোগ আছে, মাত্র দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ থেকে দুই বছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকা লাভ নিয়ে গেছে হাঙ্গামা। একারণে হাঙ্গামা’র বিরুদ্ধে বাংলাদেশে তদন্তও চলছে। নিজেরাই অনিয়ম করে এখন আবার মামলায় পক্ষভুক্ত হলো হাঙ্গামা।
বুধবার (২ আগস্ট) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ‘হাঙ্গামা’র আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালতের আদেশের বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার মেহেদি হাসান চৌধুরী।
আদালতে ‘হাঙ্গামা’র পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস,ব্যারিস্টার মেহেদি হাসান চৌধুরী ও ব্যারিস্টার উপমা বিশ্বাস।
মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের পক্ষে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞাসহ রুল জারি করেন।
রুলে ওইসব গান ব্যবহার করা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। রুলের বিবাদীরা হচ্ছেন, সংস্কৃতি সচিব আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও তথ্য সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান এবং ছয়টি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি।
উল্লেখ্য, মোবাইল ফোনভিত্তিক ভারতীয় কনটেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হাঙ্গামা (বাংলাদেশ) প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। তাদের কাছ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পেলে হাঙ্গামার বিরুদ্ধে ওঠা ‘অস্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড’ -এর জন্য ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অভিযোগ আছে, মাত্র দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ থেকে দুই বছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকা লাভ নিয়ে গেছে ভারতীয় কোম্পানি হাঙ্গামা। এই টাকা কোম্পানিটির মূলধনের প্রায় ৩২০ গুণ। এ বিষয়টিকে ‘অস্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক । এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে জানতে চেয়ে বিটিআরসিতে চিঠি দিয়েছে। হাঙ্গামা’র বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ, দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ২০১৫ সালে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৮১ হাজার ২৫০ এবং ২০১৪ সালে ৬ কোটি ৭ লাখ ৩৩ হাজার ১২৫ টাকা লভ্যাংশ বাবদ ভারতে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুসন্ধান করে দেখেছে, হাঙ্গামার কর্মীসংখ্যা মাত্র এক জন। এছাড়া স্থায়ী কোনও স্থাপনা নেই। স্থায়ী স্থাপনাবিহীন ‘স্বল্প মূলধনী’ এ প্রতিষ্ঠানটি এক জন মাত্র কর্মী দিয়ে মূলধনের প্রায় ৩২০ গুণ লভ্যাংশ ভারতে পাঠানোর বিষয়টিকে ‘অস্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিটিআরসিকে দেওয়া তাদের চিঠিতে ‘হাঙ্গামা’কে ‘শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন অখ্যাত একটি কোম্পানি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এই অনিয়ম ঠেকাতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভাস)এর গাইডলাইন দাবি করেছে। বেসিস-এর ভাষ্য, গাইডলাইন না হলে দেশীয় এই শিল্পটি একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে।
/এমটি/ এপিএইচ/টিএন/ এপিএইচ/