মৎস্য ভবন থেকে বাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রধান গেট পর্যন্ত পৌঁছুতে ৫০ মিনিটের মতো সময় লাগে ফয়সাল উদ্দিনের। এরপর সেখান থেকে হেঁটে ফার্মগেটে অফিসে পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ২০ মিনিট। ফয়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাসে মাত্র ৩০০ গজ পথ আসতে সময় লেগেছে ৫০ মিনিট। এ পথটি পায়ে হেঁটে আসলে লাগতো দুই মিনিট। এখন চিন্তা করলাম বাসে বসে না থেকে বরং হেঁটেই অফিসে যাই।’
শুধু ফয়সাল উদ্দিন নন, যানজটে বিরক্ত হয়ে প্রায় সবকটি বাসের যাত্রীরা নেমে পড়েন রাস্তায়। হেঁটে গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেন।
এদিকে, সড়কে এমন পরিস্থিতি দেখে যাত্রীরা বাসে ওঠার পর পরই ভাড়া আদায় করে নেন হেল্পাররা। ফলে গন্তব্যে না পৌঁছেও ভাড়া দিতে হয়েছে যাত্রীদের। এ নিয়ে যাত্রী ও হেল্পারদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডাও দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে রাজধানী জুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। এতে অধিকাংশ সড়ক ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। বৃষ্টির পর জলজটের পাশাপাশি দেখা দেয় তীব্র যানজট। সড়ক জুড়ে থৈ থৈ পানি। এতে নগরজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়েছে ট্রাফিক পুলিশকেও।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ট্রাফিক সদস্য সাইফুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি কি করবো? হাঁটু পরিমাণ পানি। সবাই এক সঙ্গে যেতে চায়। একটু জায়গা খালি হলে কার আগে কে যাবে প্রতিযোগিতায় নামে। কেউ কমান্ড মানতে রাজি না। আর কতো সহ্য হয়।’
পরে এই ট্রাফিক পুলিশের সদস্যের সামনেই নিজের মাইক্রোবাস দাঁড় করিয়ে রেখে হাতে লাঠি নিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন একজন চালক। পরে উপস্থিত যাত্রীদের চাপের মুখে ট্রাফিক সদস্যকে আবার তার দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরীর নিম্নাঞ্চলবাসীকে। বিশেষ করে নগরীর জুরাইন, মধ্য জুরাইন, ডিএনডি বাঁধ, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, মিরপুর বেড়িবাঁধ ও বসিলাবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী কোনও সমাধান না হওয়ায় এ নিয়ে চিন্তিত তারা।
এদিকে, বঙ্গভবন ও সচিলায় এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার সব সেবা সংস্থাগুলোকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা ওয়াসা, ডেসা, বঙ্গভবন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ঢাকা ওয়াসাকে জরুরি ভিত্তিতে এ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ ইমার্জেন্সি টিমকে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকার ড্রেন ও ম্যানহোলগুলো খুলে দিয়ে পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে এই টিম।
/এসএস/এসএমএ/