বনশ্রীতে শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুরে যে গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় অস্থিরতা শুরু হয়, শনিবার (৫ আগস্ট) বিকাল সোয়া তিনটার দিকে তার লাশের ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহামুদ এ ময়না তদন্ত করছেন। ডা. সোহেল বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে বনশ্রী জি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ি থেকে লাইলী (২৫) নামের এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এ তথ্য এলাকায় ছড়িয়ে যাওয়ার পরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে গৃহকর্তার ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে গৃহকর্মী লাইলীর স্বামীর ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন, গৃহকর্ত্রী শাহানা বেগম ও বাড়ির কেয়ারটেকার টিপুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গৃহকর্তার দাবি, শুক্রবার সকালে বাড়ির কাজ করতে এসে দরজা লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুঁলে আত্মহত্যা করেছে লাইলি। কিন্তু এ দাবিকে নাকচ করেছেন ওই ফ্লাটের তৃতীয় তলায় আরেক গৃহকর্মী, যিনি নিজেকে লাইলীর স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়েছেন। নুরুন্নাহার নামের এই গৃহকর্মী লাইলীর ঝুলন্ত রাশ দেখার পর প্রথম হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করেন। এ তথ্য ছড়িয়ে যাওয়ার পর এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এর আগেও এই বাসাতেই গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
/জেএ/এএইচ/