শুক্রবার বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এসব পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশ্বে হৃদরোগ মহামারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বে এক কোটি ৭৩ লাখ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ মারা যান অপরিণত বয়সে এবং উন্নয়নশীল দেশে। বাংলাদেশে ৫৯ শতাংশ মৃত্যু হয় অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ মৃত্যু হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘হৃদরোগে মৃত্যুর অন্যতম কারণ ধূমপান। ধূমপান প্রতিরোধে তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির খসড়া চূড়ান্ত হয়ে গেছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর শিগগিরই আইন হিসেবে পাস করা হবে। তবে হৃদরোগের বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। সচেতনতা হৃদরোগ প্রতিরোধের অন্যতম উপায়।’
জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, ‘আমাদের হৃদরোগ থেকে রক্ষা পেতে হবে। কারণ, হৃদরোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। যেটা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের মানুষের পক্ষে বহন করা কষ্টকর। হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং এটিকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘তামাক গ্রহণ, সুষম খাদ্য গ্রহণে অসচেতনতা, অর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চমাত্রায় কোলেস্টরেল হৃদরোগের অন্যতম কারণ। ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ মৃত্যুবরণ করেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। রক্তের গ্লুকোজ যদি সঠিকভাবে নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়া না হয় তাহলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘হার্টের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। প্যাকেটজাতীয় খাদ্য, মিষ্টি ও চকলেট পরিহার করে বেশি করে ফল খেতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘হৃদরোগ কমাতে ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। কারণ, ধূমপান করোনারি হৃদরোগের অন্যতম কারণ। ধূমপান ছাড়ার দুই বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশ কমে যায় এবং ১৫ বছরের মধ্যে অধুমপায়ীর মতো শঙ্কামুক্ত হয়ে যায়।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি এ মোস্তফা জামান প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
মানুষকে অসামাজিক করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কিংবা সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিরাপত্তা পরিষদের রোহিঙ্গা বৈঠক সমাপ্ত