এদিকে, হাত ভালো হওয়ার পরই মুক্তা প্রথম ছোট ভাইকে কোলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। যে এতোদিন তার চোখের সামনে ঘুরে বেড়ালেও কোলে নিতে পারতো না মুক্তামনি।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, আগামী রবিবার মুক্তামনির হাতে স্কিন গ্রাফট করা হবে। ফলে মুক্তা মনির হাত ফিরে পাবে স্বাভাবিকতা।
প্রসঙ্গত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাতক্ষীরার ১১ বছরের মেয়ে মুক্তামনি ‘লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত। এই রোগের কারণে তার এক হাত ফুলে গিয়ে দেহের চেয়েও ভারী হয়ে ছিল। গত চার বছর ধরে এই হাতের ‘বোঝা’ বয়ে বেরিয়েছে মুক্তামনি। শরীরের অসহ্য যন্ত্রণায় তার স্বাভাবিক কোনও জীবন ছিল না। এই রোগের সঙ্গে সে রক্তশূণ্যতা ও অপুষ্টিতেও আক্রান্ত ছিল।
‘
শুক্রবার ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী রবিবার এবং মঙ্গলবার মুক্তামনির হাতে স্কিন গ্রাফটিং এর কাজ করা হবে। শরীরের অন্য জায়গা থেকে চামড়া কেটে হাতে লাগানো হবে, এতে করে হাতটি স্বাভাবিকতা হয়ে যাবে।
তাহলে কি মুক্তামনির হাতে অতিরিক্ত কোনও মাংসপিন্ড নেই? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুক্তামনির হাতের মূল অপারেশনের কাজ শেষ। গতকাল বৃহষ্পতিবার তার হাতের ড্রেসিং করা হয়েছে। তখন দেখেছিলাম, হাত একেবারে পরিস্কার। তবে যতোটুকু বাড়তি টিস্যু রয়েছে সেগুলো কেটে ফেলে চামড়া লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
এদিকে, মুক্তামনির বাবা মো. ইব্রাহীম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্যাররা (চিকিৎসকবৃন্দ) আমাদের বলেছেন, আগামী রবিবার আমার আম্মুজানের (মেয়েকে আম্মুজান বলেই ডাকেন বাবা ইব্রাহীম হোসেন) হাতে চামড়া লাগানো শুরু করবেন তারা। এতে করে হাতটি আমাদের হাতের মতো হয়ে যাবে। আমার আম্মুজান এটা শোনার পর থেকেই কেমন যেন করছে। সে বারবার আমাদের জিজ্ঞেস করছে তার হাতটি ভালো হয়ে যাবে কিনা। আজ সারাদিন ধরে সে বলছে, হাত ভালো হয়ে গেলে সে আবার আগের মতো স্কুলে যাবে, নিজের হাতে চুল আচড়াবে আর ছোটভাইকে কোলে নেবে। আজ থেকেই মেয়েটা আমার হাসিখুশী হয়ে উঠেছে। আপনারা সবাই আমার আম্মুজানের জন্য দোয়া করবেন। মেয়েটার মুখের হাসি যেন আর থেমে না যায়।’
আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা: বিমানবন্দরে থাকবেন বিশিষ্টজনরা, সড়কে জনতা
শান্তিতে নোবেলের অংশীদার বাংলাদেশের দুই সংগঠনও
অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার, ট্যারিফ কমিশনের কাজ কী