এই চক্রের দুই সদস্য হলো- ইরু শেখ (৩২) ও হিরো শেখ (৩০)। শনিবার (২৮ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের দুই নম্বর গেটের সামনে থেকে তাদের আটক করেছে র্যাব।
র্যাব জানায়, তারা ভিক্ষুক, পিয়ন, রিকশাওয়ালা, রংমিস্ত্রী, সুইপার, ঝাড়ুদার, এভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিচয়ে অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হয়। তারা টার্গেট ব্যক্তিকে প্রথমে একটি আসল সৌদি রিয়ালের নোট দেখায়। এবং এর দাম সম্পর্কে তার কোনও ধারণা নেই বলে জানায়। এভাবে আস্থা তৈরির পর টার্গেট ব্যক্তির কাছে অর্ধেক দামে তা বিক্রি করে দেয়। এভাবে টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে প্রতারকরা।
র্যাবের ভাষ্য মতে, এরপর প্রতারকরা ক্রেতাকে জানায়, তার পরিচিত একজনের কাছে এধরনের আরও রিয়াল আছে। সেও রিয়ালগুলো বিক্রি করতে চায়। কিন্তু কোথায় কিভাবে বিক্রি করবে তা জানে না। ক্রেতাকে আগের দামেই রিয়ালগুলো কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এমন প্রস্তাবে লোভে পড়ে ক্রেতা সহজে রাজি হয়ে যান। এরপর ক্রেতাকে টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় আসতে বলা হয়। ক্রেতা আসার পর একটি কাপড়ে মোড়ানো ব্যাগে করে জাল রিয়ালের নোট দেওয়া হয়। বিনিময়ে ক্রেতার কাছ থেকে বাংলাদেশি টাকা নিয়ে কেটে পড়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা।
এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট বিক্রির প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত বলে জানান র্যাব ২- এর মেজর মো. আতাউর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এরা অভিনব কায়দায় ফাঁদ পাতে।তাদের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।’
এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কত জন জড়িত প্রশ্নে র্যাব ২ -এর এই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিটি লেয়ারে একাধিক ব্যক্তি জড়িত।পুরো প্রক্রিয়ার জন্য জাল নোট তৈরি করতে হয়।এরপর সেটা বেচাকেনার পর কয়েক হাত ঘুরে আটক ব্যক্তিদের কাছে আসে। এরপর তারা সেটা প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে। আমরা এই পুরো চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছি।’
সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ করে মেজর মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘বেশি লাভের আশায় কারও প্রলোভনে বা ফাঁদে পড়া যাবে না। যারা বেশি লাভের আশায় অল্প দামে আসল বৈদেশিক মূদ্রা কিনতে চান, তারাই এধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করতে হলে অবশ্যই সেটা ভালোভাবে পরীক্ষা করে কিনতে হবে। তাহলেই প্রতারিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না।’