রাজধানীতে মা-ছেলে খুন

নিহত মা ও ছেলেরাজধানীর রমনা থানার কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের বিপরীত দিকের একটি বাসা থেকে মা-ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের নাম শামসুন্নাহার করিম (৪৫) ও তার ছেলে শাওন (১৯)। তাদের ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। তবে কারা কী কারণে তাদের হত্যা করেছে তা জানা যায়নি। 

ময়নাতদন্তের জন্য তাদের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বাড়ির গৃহকর্তা আব্দুল করিম,দারোয়ান নোমান ও গৃহকর্মী রাশেদাকে থানায় নিয়ে গেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রমনা থানাধীন ৭৯/এ আঞ্জুমান মফিদুল রোডে ছয় তলা ভবনের  পঞ্চম তলার নিজ ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে শামসুন্নাহার করিমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর চার তলার সিঁড়ি থেকে তার ছেলে শাওনের লাশ উদ্ধার করা হয়। শাওনের লাশের পাশে একটি রক্তমাখা ছুরি পড়ে ছিল। তাদের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কারা কেন তাদের হত্যা করেছে, তা জানা এবং খুনিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

ঘটনাস্থলে পুলিশওই বাসার গৃহকর্মী রাশেদার বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মাগরিবের নামাজের পর সে (রাশেদা) ওই বাসায় কাজ করতে যায়।সেসময় গৃহকর্ত্রী শামসুন্নাহার নিজেই দরজা খুলে দেন। গৃহকর্মী কিচেনে কাজ করছিল। পৌনে ছয়টার দিকে হঠাৎ কে বা কারা তার কিচেনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। এসময় সে ভেতর থেকে চিৎকার করতে থাকে। পরে নিচ থেকে দারোয়ান এসে তার দরজা খুলে দিলে, সে ঘরের ভেতরে গৃহকর্ত্রীর লাশ দেখতে পায়।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ছয় তলা ওই ভবনটির মালিক আব্দুল করিম নিজেই। তিনি আমদানি-রফতানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার তিন ছেলের মধ্যে নিহত শাওন সবার ছোট। সে ‘ও’ লেভেলের ছাত্র। বড় দুই ছেলে মুন্না ও অনিক দেশের বাইরে থাকেন। অনিক কানাডা থাকেন বলে এক স্বজন জানিয়েছেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় গৃহকর্তা আব্দুল করিম বাসার বাইরে ছিলেন। তবে তার আরেকটি সংসার রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে পারিবারিক কোনও ঝামেলার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন। পারিবারিক কলহ নাকি বাইরের কেউ অন্য কোনও কারণে দুজনকে হত্যা করেছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। গৃহকর্তা আব্দুল করিমসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’