তুরাগ তীরে ৩০ প্রতিষ্ঠানকে উচ্ছেদের বিষয়ে শুনানি রবিবার পর্যন্ত স্থগিত

 হাইকোর্ট

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বিচার বিভাগীয় তদন্তে নির্দেশিত তুরাগ নদী দখলে রাখা ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে উচ্ছেদের বিষয়ে শুনানি আগামী রবিবার (১২ নভেম্বর) পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার এ সংক্রান্ত আবেদনের আংশিক শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

আদালতে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান। 

পরে মনজিল মোরসেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তুরাগ নদী দখল করে থাকা ৩০টি প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের বিষয়ে আজ শুনানি করেছি। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আদালত আগামী রবিবার পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেছেন। 

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি তুরাগ নদীর উভয়পাড়ে অবৈধ স্থাপনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের এ আদেশের ফলেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

পরে ওই বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত অবৈধ স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- এনন টেক্স, ড. ফরাস উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়, কর্ডোড ল্যান্ড ডেভলপার এবং ক্যাপ্টেন জাকির হোসেন, রিয়াজ উদ্দিন, প্রত্যাশা হাউজিং, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, নার্গিস আক্তার অ্যান্ড সালাহ উদ্দিন, মো. জাহাঙ্গীর জিপার ফ্যাক্টরি, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভারস ইউনিয়ন, সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কলেজ, ইউনুস মেম্বার, (আনন্দ গ্রুপ) জরিনা টেক্সটাইল, হামিম গ্রুফের সাজিদ ওয়াসিং, বিশ্ব ইজতেমা, শিল্প সম্পর্কিত শিক্ষায়ন, টঙ্গী নিউ মার্কেট (মসজিদ মার্কেট), শাহ আলম গং, মোসলেম সরকার, মেজবাহ উদ্দিন সরকার, আব্দুল হাই, আবু তাহের, গিয়াস উদ্দিন, ছোবহান শেখ, লুৎফা বেগম, ডলি বেগম, সেলিম শেখ, ফজলু মিয়া,  আনোয়ার গ্রুপ, দি মার্চেন্ট লি, অ্যান্ড প্যাকেজিং ফ্যাক্টরি, টেক্সাটাইল মালিক ইমান আলীসহ এই ৩০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ নভেম্বর ‘তুরাগকে মৃত ঘোষণা সময়ের ব্যাপার’ শিরোনামে একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশ রিট আবেদন করে। 

পরে ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে জমা দেওয়া হলে এর ওপর শুনানি শুরু হয়। আজ এ বিষয়ে আংশিক শুনানি শেষে মামলাটি আগামী রবিবার পর্যন্ত মুলতবি রাখেন আদালত।