স্ত্রী হত্যা মামলায় আমরা খুবই কঠোর: হাইকোর্ট

সুপ্রিম কোর্টস্ত্রী হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী মাসুদ ব্যাপারীর জামিনের শুনানিকালে হাইকোর্ট তার আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, স্ত্রী হত্যা মামলায় আমরা কঠোর, খুবই কঠোর।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিমেসম্বর) বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন।
এসময় আসামি মাসুদ ব্যাপারীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী গোপাল চন্দ্র। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।
জামিন শুনানিতে আইনজীবী গোপাল চন্দ্র আদালতকে বলেন, ‘মাসুদ ব্যাপারী তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে, এমন কোনও তথ্য-প্রমাণ বিচারিক আদালতে কেউ উপস্থাপন করেননি। তবুও বিচারিক আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছেন। তিনি স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেননি। তাই এ মামলায় হাইকোর্টে আপিল শুনানিকালে তার অন্তর্বর্তী জামিন চাচ্ছি।’
এসময় আদালত বলেন, ‘তিনি স্ত্রীকে হত্যা না করলে ওই সময় তিনি তার (স্ত্রীর) পাশে না থেকে পালিয়ে থেকেছেন কেন? এমনকি বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালেও তিনি (আসামি মাসুদ) পালিয়ে ছিলেন। তাই পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় আমরা তার জামিন দেবো না। স্ত্রী হত্যা মামলায় আমরা কঠোর, খুবই কঠোর।’

পরে আইনজীবী গোপাল চন্দ্র বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১১ সালের ৬ মে ঢাকার দোহারের মধুরচর গ্রামে নুরুন্নাহার আক্তার মণি (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল মালেক মোল্লা বাদী হয়ে নিহতের স্বামী মাসুদ ব্যাপারী, তার বাবা-মা, এক বোন ও তার তিন চাচাসহ মোট সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, মণির শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।’

এই আইনজীবী বলেন, ‘অভিযোগ অনুযায়ী বাদীপক্ষ বিচারিক আদালতে কোনও প্রতিবেদন   উপস্থাপন করতে পারেনি। তবুও ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৫ এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন। এরপর মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। কিন্তু মামলা চলাবস্থায় বাদী (নিহতের বাবা আব্দুল মালেক) মারা যাওয়ায় তিনি সাক্ষ্য দিতে পারেননি। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত এই মামলার রায় দেন। সেই রায়ে মাসুদ ব্যাপারীকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়ে মামলার অন্য আসামিদের খালাস দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার পর মাসুদ ব্যাপারী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারেই আছেন। আমরা তার সাজার বিরুদ্ধে আপিল ও অন্তর্বর্তী জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আজ  (বৃহস্পতিবার) আবেদন জানাই। কিন্তু আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন: 

সেই এডিসি ও চিকিৎসকের মধ্যে সমঝোতা