প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ত্রুটির ঘটনায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট। এতে বিমানের তিন কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা পেয়েছে সংস্থাটি। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের অনুমতি চাইবে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পক্ষে আদালতে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। কাউন্টার টেরোরিজমের উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমরা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এতে তিন কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চাওয়া হবে। আদালত অনুমতি দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাকিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গতবছরের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৭৭ বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। পরে অন্য একটি বিমান পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পৌঁছানো হয়। পরে ত্রুটি সারিয়ে ওই উড়োজাহাজটিও হাঙ্গেরি পাঠানো হয়। এই ঘটনায় ২০ ডিসেম্বর রাতে বিমান বন্দর থানায় ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন (মামলা নম্বর ২৩) বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটারিয়াল ম্যানেজমেন্ট) উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামান। এর আগে এই ৯ জনকে বিমানের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ২১ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সাত জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।তারা হলেন- বিমানের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ( প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) এস এ সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (এমসিসি) বিল্লাল হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার অফিসার লুৎফর রহমান, সামিউল হক, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস ও জাকির হোসাইন। পরে এ মামলায় বিমানের মোট ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে।
আরও পড়ুন- প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের জরুরি অবতরণ
প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি: অবহেলা নাকি ষড়যন্ত্র!
প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি: চিফ ইঞ্জিনিয়ারের চাপে লগবুকে রোকনের সই!
প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটির ঘটনায় মামলা