ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান। এতে তিনি বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। হয়রানি করার উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে। এই মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর কেউই তাদের জবানবন্দিতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মূলত এই মামলাটি সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখার। এই শাখার কোনও কর্মকর্তাই সাক্ষ্যে বলেননি খালেদা জিয়া ওই শাখায় অ্যাকাউন্ট খুলেছেন বা টাকা উত্তোলন করেছেন।’
এইআইনজীবী বলেন, ‘ফটিকছড়ি থেকে এক অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা কর্মচারীকে এনে ঘষামাজা করে দুদক একটি রিপোর্ট দেয়। যার কোনও ভিত্তি নেই।’ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ৩টা ৫০ মিনিটে আদালতের দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। এর আগে বাকি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন আদালত। এর পরপরই খালেদা জিয়া আদালত থেকে বেরিয়ে যান।
গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালত মামলা দুটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২৬-২৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। এতে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী ও তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়।
এছাড়াও এতিমদের জন্য বিদেশি থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ মামলাটি করা হয়। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এতে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।