ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার হাজী বিশারদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৩ সাল থেকে একই স্কুলে শিক্ষকতা করছি। গ্রামের স্কুলে ছেলে মেয়েরা স্বল্প মূল্য বেতন কিংবা বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পায়। কিন্তু তাতে তো একজন শিক্ষকের কোনও বেতন হয়না। তবুও বছরের পর বছর পাঠদান করে যাচ্ছি। ছেলেমেয়েরা অন্তত শিক্ষা বঞ্চিত না হোক এই লক্ষ্যেই এ কাজ করি। কিন্তু বিনা বেতনে আর কতদিন শিক্ষকতা করতে পারবো সেটাও অজানা। অভাবের সংসারে আছে দুই ছেলে মেয়ে। তাদেরও এই করুণ অবস্থায় পড়ালেখা বন্ধ রাখিনি।’
এমপিওভুক্তির দাবিতে গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। এ দাবিতে আমরণ অনশন,অবস্থান ধর্মঘট,শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিভিন্ন সময়ে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। তারপরও (২০১৬-১৭) এবং (২০১৭-১৮) অর্থবছরের বাজেটে নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি অথবা বাড়তি ভাতার ব্যবস্থা করতে কোনও বরাদ্দই রাখেননি অর্থমন্ত্রী। তাই আবার রাজপথে নেমেছেন শিক্ষক কর্মচারীরা। সাত হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা এই অবস্থান কর্মসূচি ও অনশনে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন, ‘বেতন দেন, না হয় গুলি করেন’, ‘এমপিও না হলে বাড়ি ফিরে যাবো না’। এরকম নানা লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড কেউ হাতে নিয়ে কেউবা গলায় ঝুলিয়ে বসে আছেন দিনরাত।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বামী সন্তানকে ঘরে রেখে ঢাকায় এসে আন্দোলন করছি। আশা একটাই , কেউ না দেখলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেখবেন। কারণ তিনি শিক্ষাবান্ধব। শিক্ষামন্ত্রী শুধু আশা দিয়ে আসছেন। কিন্তু কিছুই করছেন না। এই আশায় থেকে আমরা এখন সমাজের বোঝা। অন্য কোথাও যে চাকরি করবো তারও কোন বয়স নেই। সংসার চালাতে প্রতিবছর একটা করে গরু বিক্রি করতে হয়। মাঝে মধ্যে মনে হয় আত্মহত্যা করি।’
বগুড়ার শিবগঞ্জের রায়নগর আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নুরুন্নাহার বলেন, ‘শুরু থেকেই আন্দোলনে আছি। টাকা ধার করে ঢাকায় এসেছি। আশায় এবার যদি কেউ আমাদের কথা শুনে। কিন্তু এবারও আশাহত হয়ে পড়ছি আমরা। শিক্ষামন্ত্রীর আশাবাদ এখন আমাদের কাছে অভিশাপ মনে হয়। এলাকার লোকজন এখন ব্যঙ্গ করে বলে, হাজী সাহেবের মেয়ে বিনা বেতনে চাকরি করে।’
আরও পড়ুন:
অনশনে নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা