জেলা জজ পদে পদোন্নতির দ্বার খুললো বিচারকদের



অতিরিক্ত জেলা জজ থেকে জেলা জজ হওয়ার শর্ত শিথিল করে পদোন্নতি জটিলতার অবসান করেছে সরকার। এর ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর এখন থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বা সমপর্যায়ের বিচারক পদে এক বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া যাবে।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক গেজেট থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ গেজেটটি প্রকাশ করে।

প্রকাশিত ওই গেজেটে, ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা-বিধান এবং চাকরির অন্যান্য শর্তাবলী) বিধিমালা, ২০০৭’-তে জেলা জজ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বা সমপর্যায়ের বিচারক পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন-১) মাহবুবার রহমান সরকার স্বাক্ষরিত ওই গেজেটে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্রান্তিকালীন সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে এক বছরের জন্য জেলা ও দায়রা জজ বা সমপর্যায়ের বিচারক পদে পদোন্নতি দিতে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। বিধিমালার বিধি-৪ এ জনস্বার্থে যোগ্যতা শিথিল করে পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও গেজেটে জানানো হয়।

এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা জজ থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিচারিক কাজে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিলের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শর্ত শিথিল করে এক বছর করার কথা বলা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

তারও আগে, ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভা থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতির জন্য ওই শর্ত শিথিল করে ৬ মাস করার কথা বলা হয়েছিল। তখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস কে সিনহা।

কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে মন্ত্রণালয় থেকে কোনও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। গত নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে মন্ত্রণালয় থেকে ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে এক বছর করা হয়।