যাত্রীর দেওয়া চা পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন সিএনজি অটোরিকশাচালক ইস্কান্দার হাওলাদার। যাত্রীরাই হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে তাকে অটোরিকশায় তুলে নেয়। পথে বসেই মারা যান ইস্কান্দার। এরপর ওই যাত্রীরা তার (ইস্কান্দারের) লাশটি মানিক মিয়া এভিনিউ’র সেচ ভবনের ড্রেনে ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
গত ১৩ জানুয়ারি সেচ ভবনের সামনের ড্রেন থেকে অজ্ঞাত একব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, নিহত অটোরিকশাচালকের নাম ইস্কান্দার হাওলাদার। তবে তখনও তার মৃত্যুর কারণ জানতে পারেনি পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার আব্দুল বাতেন ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইস্কান্দারের মৃত্যুর কারণ প্রথমে আমাদের কাছে অজ্ঞাত ছিল। ডিবি পশ্চিমের টিম এটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। এরপর তারা জানতে পারে ইস্কান্দারকে হত্যা করা হয়েছে।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘গত ১৩ জানুয়ারি বাণিজ্য মেলার সামনে থেকে দুই যাত্রী ইস্কান্দারের অটোরিকশা ভাড়া করে। তারা প্রথমে ফার্মগেটে আসে। বাণিজ্য মেলা থেকে ফার্মগেটে আসার পথে চালকের সঙ্গে যাত্রী দুজনের সখ্যতা হয়। এরপর চা পান করার কথা বলে তারা ফার্মগেটে নামে। তিন জনেই একসঙ্গে চা পান করে। এসময় চালকের চায়ে যাত্রীরা অচেতন করার ওষুধ মিশিয়ে দেয়।
চালক ইস্কান্দার অচেতন হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে তাকে অটোরিকশায় তুলে নেয় যাত্রী দুজন। এসময় যাত্রীদের একজন অটোরিকশা চালায়। অন্যজন ইস্কান্দারকে নিয়ে পেছনে বসে। পরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সেচ ভবনের সামনের ড্রেনে ইস্কান্দারের লাশ ফেলে দেওয়া হয়।’
ডিবি পুলিশ তদন্ত করে সেই দুই যাত্রীকে সোমবার রাজধানীর শাহ আলীর মাজারের দ্বিতীয় কলোনি এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার দুজনের নাম মো. লিটন ও মো. জসীম। তারা পুলিশের কাছে অটোরিকশাচালক ইস্কান্দারকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
যুগ্ম-কমিশনার বলেন, ‘গ্রেফতার দুই আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।’