দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে শরীরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বুলেট বয়ে বেড়ানো বৃদ্ধা জোসনাকে (৮০) কোনও আশ্বাস দিতে পারলেন না চিকিৎসকরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে বুলেটটি তার ফুসফুসের ভেতর আটকে আছে। তাই রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এটি বের করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না চিকিৎসকরা।
আজ রবিবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথা নিশ্চিত করেছেন তার চিকিৎসক ও জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ইএমও ফাতেহ আকরাম দোলন।
তিনি বলেন, জোসনা নামের ওই বৃদ্ধার স্পাইরোমেট্রি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, তার ফুসফুসের মধ্যে বুলেটটি আটকে আছে। এ কারণে এটি বের করা সম্ভব নয়। তার শরীরে বুলেটটি এভাবেই থেকে যাবে। আগামীকাল সোমবার তার সিটি স্ক্যান করা হতে পারে।
তিনি বলেন, রোগীর শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু তার শরীর থেকে অনেক রক্ত বেরিয়ে গেছে তাই দুর্বল হয়ে পড়াটা স্বাভাবিক।
বর্তমানে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ১৪/১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩১ নম্বর বেডে ভর্তি আছেন জোসনা। তবে তাকে সার্বিক চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
১৯৭১ সালে ঢাকার শাহজাহানপুরের ঘরে স্বামী সঙ্গে ছিলেন জোসনা। এসময় পাকিস্তানি বাহিনী এদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি ছোড়ে। সেই গুলি ঘরের চাল ফুটো হয়ে বিছানার ওপর বসে থাকা জোসনার গায়ে লাগে। সেসময় তার শরীর থেকে চিকিৎসকরা একটি গুলি বের করলেও অন্য গুলিটি থেকে যায়। মুক্তিযুদ্ধের এতবছর পেরিয়ে গেলেও শরীরে সেই গুলি বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। জোসনার স্বামী বোরহানুল্লাহ সাত বছর আগে মারা গেছেন। তাদের এক মেয়ে ও তিন ছেলে।