মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত রুলের শুনানিকালে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের একক বেঞ্চ বিব্রত প্রকাশ করেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সত্যরঞ্জন মণ্ডল। এছাড়া, নিজাম হাজারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর পদে থাকা নিয়ে জারি করা রুলের শুনানিতে হাইকোর্ট বিব্রত হন। বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলের শুনানিতে বিব্রত প্রকাশ করেন এবং মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর নিয়ম অনুসারে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি এ মামলার শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।
প্রসঙ্গত, ‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সংসদ সদস্য’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।’
পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।
এরপর ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর নিজাম হাজারীর পদে থাকার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. এমদাদুল হক তার রায়ে রুল মঞ্জুর করে নিজাম হাজারীর পদে থাকাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আর কনিষ্ঠ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান এ বিষয়ে করা রিট ও রুল খারিজ করে দেন। অর্থাৎ তার রায়ে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদ বৈধ।
পরে আইন অনুসারে রিট আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে তিনি একক বেঞ্চের কাছে পাঠান।
কয়েক দফা এ মামলায় বিব্রত দেখান হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চ। তবে এর আগে এ মামলাটি বিচারপতি ফরিদ আহমেদের একক বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে তিনিও এ নিয়ে বিব্রত বোধ করেন। কিন্তু সর্বশেষ বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের একক বেঞ্চ মঙ্গলবার মামলাটির শুনানিতে বিব্রত প্রকাশ করলেন।