পূর্বাচল নতুন শহর এলাকায় যানজট থাকবে না: রাজউক

পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলায় পূর্বাচল নতুন শহর এলাকায় কোনও যানজট থাকবে না বলে জানিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। রবিবার দুপুরে প্রকল্পের ১৪নং সেক্টরের আর্মি ক্যাম্পে ‘কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পাশে (কুড়িল হতে বালু নদী পর্যন্ত) ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক কাজের অগ্রগতি বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

প্রজেক্ট ব্রিফিংসম্মেলনে ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আনিস প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সার্ভিস রোডের বর্তমান অবস্থানের কারণে আগের চেয়ে বেশি মানুষ সুবিধা ভোগ করবে। এছাড়া ৩০০ ফুট রোডের উত্তর-দক্ষিণে রাজউকের ড্যাপের তিনটি প্রস্তাবিত রাস্তা রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে এই রাস্তা তিনটির বাস্তবায়নের কাজও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। এর জন্য রিভাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (আরডিপিপি) করা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার খুব কাছেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্প রয়েছে। সবগুলো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের ট্রাফিকের কোনও জট সৃষ্টি হবে না। রাজউকের ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) তিনটি প্রস্তাবিত রাস্তা বাস্তবায়নসহ পুরো প্রকল্পের খরচ ও সময় কিছুটা বাড়বে বলে তিনি জানান।

রাজউকের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘খাল প্রজেক্টের ফলে ড্যাপের প্রস্তাবিত রাস্তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে। এটি আমাদের একটি প্লাস পয়েন্ট। ড্যাপের রাস্তা বাস্তবায়িত হলে বিপুল জনগোষ্ঠি সুযোগ-সুবিধা পাবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরীফ রায়হান কবীর বলেন, ‘খাল খনন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে এক হাজার ২০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৫০টি পরিবারের ক্ষতিপূরণ বাবদ এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ৬০০টি পরিবারের জমি নিয়ে মামলা আছে বিধায় ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা যায়নি এবং বাকি ৫০টি পরিবার এখনও ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেনি।’

মসজিদের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করছেন রাজউকের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমানপ্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের অধীন ১৩.৬৪৩ কিলোমিটার খাল খনন, ২৪.৬ কিলোমিটার সার্ভিস রোড, ৩৭.৬ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ৮টি এটড্রেড ইন্টারসেকশন ও একটি ড্রেড সেপারেটর ইন্টারসেকশন, খালের উপর ৪টি আর্চ ব্রিজ, ৪টি এক্সপ্রেসওয়ে ফুটওভার ব্রিজ, ১২.৩ কিলোমিটার ৮ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে, একটি পাম্প হাউজ, দুই হাজার ২৭০টি স্ট্রিট লাইট, ৭ হাজার ৮০০ লিনিয়ার মিটার স্ট্রম স্যুয়ারেজ লাইন, বোয়ালিয়া ও এডি-৮ খালের উভয় পাশে ওয়াকওয়েসহ খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণ, ২৬ কিলোমিটার কনক্রিট পাইল দ্বারা স্যুয়ার প্রটেকশন এবং ১৩ কিলোমিটার ঘাস ও গাছ লাগানোর মাধ্যমে প্রকল্প এলাকা দৃষ্টি নন্দন করা হবে। এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজের জন্য ৯০.১৫৪৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- রাজউকের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান, সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনসট্রাকশন ব্রিগ্রেডের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আনিস, বুয়েটের পরামর্শক দলের প্রধান প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন, রাজউকের প্রকল্প পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিজাম উদ্দীন আহমদ, রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) মেজর ইঞ্জিনিয়ার সামসুদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলন শেষে খাল খননের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত মস্তুল এলাকার একটি মসজিদের নতুন করে নির্মাণ কাজ মাটি কেটে উদ্বোধন করেন রাজউকের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান।