এতে বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ,কবি জসীমউদদীন,শিক্ষাবিদ দুর্গা দাশ ভট্টাচার্যের শিক্ষাজীবনেও তৃতীয় বিভাগ ছিল। বর্তমানে সরকার যে আত্তীকরণ বিধিমালা করেছে তাতে তাদেরও কর্মজীবন ব্যর্থ হয়ে যায়।’ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা জীবনে তিনি (শিক্ষামন্ত্রী) ডিগ্রি পাস। তিনি কীভাবে মাস্টার্স পাস শিক্ষকদের যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেন, তা আমার জানা নেই। তার জীবনে প্রশ্নপত্র ফাঁস ছাড়া কোনও অর্জন নেই। তিনি কর্মকর্তাদের সহনীয় পরিমাণে ঘুষ গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি এ পদের জন্য যোগ্য নন বরং তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছেন।’
আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা শিক্ষকদের আত্তীকরণের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের সব যৌক্তিক দাবিকে সমর্থন জানাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাত্র ৩০ মিনিটে আমার নিজের এলাকার কলেজ সরকারিকরণ হয়েছে। সেখানকার কিছু শিক্ষককে আত্তীকরণ করা হয়েছে। পাঁচ বছর পর এসে বাকি শিক্ষকদের আত্তীকরণ করা হচ্ছে না। এটা একটা তামাশা।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, ‘অদ্ভুত নীতিমালার মাধ্যমে অন্তত ৩০০ শিক্ষককে আত্তীকরণ থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার এ চক্রান্ত শিক্ষকদের জন্য অবমাননাকর।’
জাতীয়করণ বঞ্চিত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী জাতীয় ঐক্যের সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ সাপলু বলেন, ‘সরকার ২০০১ সালে ২০০০ বিধি সংশোধন করে ১৮টি মহিলা কলেজের শতাধিক শিক্ষককে যেভাবে আত্তীকরণ করেছে এই ৪২ কলেজের ৩০০ শিক্ষককেও একইভাবে আত্তীকরণ করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য,জাতীয় ঐক্যের সদস্য ইব্রাহিম খাঁ সরকারি কলেজের প্রভাষক পারভীন আক্তার,বাউফল সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. বদরুল ইসলাম প্রমুখ।
২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সরকারি হওয়া কলেজগুলোর শিক্ষকদের মধ্যে আত্তীকরণ বঞ্চিত হন ৪২ কলেজের তিন শতাধিক শিক্ষক, প্রদর্শক এবং সহকারী লাইব্রেরিয়ান। ২০০০ সালের বিধিমালার কারণে কলেজ সরকারি করার পরও তিন শতাধিক শিক্ষক ক্যাডারভুক্ত হওয়ার সুযোগ বঞ্চিত হন। ২০-২৫ বছর আগেও উপজেলাগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছিল না, তখনকার বিধি অনুযায়ী চাকরিকালীন যোগ্যতাই ছিল মূল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন।