রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো নিয়মিত পরিদর্শনে যাওয়ার কথাও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘র্যাগিং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও মানবিক সম্পর্কের সঙ্গে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গা। এখানে মানুষের চিন্তার সার্বভৌমত্ব থাকবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে র্যাগিং নামক অপসংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজমান রয়েছে। যা মুক্তচিন্তা চর্চায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এর স্থায়ী অবসান চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘র্যাগিং বন্ধে আমরা রবিবার রাত থেকে নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো পরিদর্শন করবো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই কর্মসূচির সঙ্গে সংযুক্ত করতে অনুরোধ জানানো হবে। শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং এবং র্যাগিংয়ে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা–এই দুটি উপায়ে আমরা অগ্রসর হবো।’
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ আহমদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং যে পর্যায়ে পৌঁছেছে এখন আর চুপ থাকার উপায় নেই। র্যাগিংয়ের অভিযোগে অতীতে যারা শাস্তি পেয়েছে তারা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আর সেসব স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।’
র্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি সৈয়দ হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মো. ফখরুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য শামীমা সুলতানা, রাশেদা আখতার, হোসনে আরা প্রমুখ।
এর আগে বিকাল সোয়া ৩টায় নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে র্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ।
এ সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ও হল প্রশাসনে অনুগ্রহপুষ্ট ও আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তা দেখা দিয়েছে। আর এ অবস্থায় নিপীড়করা র্যাগিংকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করছে। নিজেদের ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রকৃত অর্থে জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘জবাবদিহিতাহীন সংস্কৃতি ও অগণতান্ত্রিক চর্চার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নামে নিপীড়ন চালানো হয়। এ নিপীড়নমূলক অরাজকতা থেকে মুক্তি পেতে জাকসুসহ উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন দেওয়ার মাধ্যমে ছাত্র-শিক্ষকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র নাসিম আখতার হোসাইন, স্বাধীন সেন, মির্জা তাসলিমা সুলতানা, রায়হান রাইন, আনিছা পারভীন জলি প্রমুখ।