১৯ বছরেও যশোরে উদীচীর ওপর হামলার বিচার হয়নি: কামাল লোহানী

বক্তব্য রাখছেন কামাল লোহানীদীর্ঘ ১৯ বছরেও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। 

মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সড়কদ্বীপে ৬ মার্চ যশোর হত্যাকাণ্ড দিবস উপলক্ষে  উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

স্মরণসভায় কামাল লোহানী বলেন, ‘১৯ বছর পার হয়ে গেল, উদীচীর ওপর বোমা হামলার বিচার এখনও হয়নি। একটা প্রতারণার ফাঁদে আমরা পড়ে আছি। সরকারের কাছে কতবার অনুরোধ করেছি তারপরও বিচার সম্পন্ন হয়নি। যে প্রশাসন স্তরের ওপর স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেও জাফর ইকবালের মতো জনপ্রিয় শিক্ষককে আঘাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি, সেই প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়ে কী হবে?’ 

তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার হয়েও যদি তাদের কাছে বিচার না পাই; তাহলে পথ একটাই, লড়াই আর সংগ্রাম ছাড়া আর কোনও পথ থাকে না।’

উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আলম তপন বলেন, ‘১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোরে উদীচীর ওপর যে হামলা হয়েছে, তার বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। এ ঘটনাটি যখন ঘটে তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। তখন সরকার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিল। আমরা আশা করেছিলাম তদন্ত করে সত্যিকারের অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার যাদের নামে মামলা করলো, সেটি ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আজকে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তরিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে  তার ২৩ জন সহযোগীর বিরুদ্ধে সরকার একটি মামলা করেছিল, কিন্তু যখন আপনি একটি মামলা করবেন, সেই মামলার শক্তি তখনই নষ্ট হয়ে যাবে, যখন সেটি ভুল মানুষের নামে হয়। উদীচীর মামলার ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই ছিল তৎকালীন আওয়ামী সরকারের উদ্দেশ্য। উদীচীর বোমা হামলার আসামিদের শাস্তি দেওয়া যদি মূল উদ্দেশ্য হতো, তাহলে এ বিচার অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত।’ 

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আহসান হাবিব লাভলু, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক জহির হোসেন জহির, উদীচীর সহ-সম্পাদক অমিত রঞ্জন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানি শুভ। 

১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ রাতে যশোর টাউন হল ময়দানে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় কুষ্টিয়ার ৩ সাংস্কৃতিক কর্মী রাম, রতন, শাহআলমসহ ১০ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০০ জন।