জাফর ইকবালের ওপর হামলা: সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মানববন্ধন

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মানববন্ধনলেখক, শিক্ষাবিদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। মানববন্ধনে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন বক্তারা।
মঙ্গলবার (৬ মার্চ) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের এই মানববন্ধন পালিত হয়। এতে সৃজনশীল প্রকাশকরাও অংশ নেন।
মানববন্ধনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘হুমায়ুন আজাদ থেকে শুরু করে অভিজিত রায় ও সর্বশেষ জাফর ইকবাল— সব হামলাই একসূত্রে গাঁথা। যশোরে উদীচীর জনসভায় হামলা, ছায়ানটের অনুষ্ঠানে হামলাও মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত অপশক্তির এ দেশে বিচরণের ফল। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে, অসাম্প্রদায়িক দেশের কথা বলে, প্রগতির কথা বলে; তারাই এসব অপশক্তির প্রধান টার্গেট। তাদের সর্বশেষ শিকার হলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল।’
গোলাম কুদ্দুছ আরও বলেন, ‘জাফর ইকবালের মতো মানুষের ওপর হামলার পরও আমরা জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনি। এখনও অনেকে মন্তব্য করছেন, সরকার আগামী নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এসব সাজাচ্ছে। আমাদের মধ্যে এখনও ক্ষমতার লোভ রয়েছে। আমরা যারা প্রগতিশীল, তাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। যতদিন এ দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, কূপমণ্ডুকতা, ধর্মান্ধতা দূর না হবে, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের মহাসচিব আখতারুজ্জামান, অনুপম প্রকাশনীর মিলন কান্তি নাথ, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুল ইসলাম, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের পক্ষে মানজার চৌধুরী সুইট প্রমুখ।
মানববন্ধনে প্রদর্শন করা বিভিন্ন পোস্টারে লেখা ছিল— ‘আমরা দীপু রাশেদ’, ‘জাফর ইকবাল বাংলাদেশের প্রাণশক্তি’, ‘হামলা করে স্বপ্ন ভাঙা যাবে না’, ‘হুমায়ুন থেকে ইকবাল, এভাবে আর কতকাল?’, ‘জঙ্গিবাদী হামলা রুখে দাও বাংলা’, ’১৪ ডিসেম্বর কি আবার ফিরে এলো?’, ‘সবকিছুই কি নষ্টদের অধিকারে যাবে?’, ‘ব্যানার নয় প্রতিবাদ চাই’ ইত্যাদি।
আরও পড়ুন-
আরও তিন দিন হাসপাতালে রাখা হবে ফয়জুলকে