খাল থেকে উদ্ধার শিশু জিসানকে মৃত ঘোষণা

জিসান (ফাইল ছবি)

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকার রামচন্দ্রপুর খালে পড়ে যাওয়ার প্রায় ৪ ঘণ্টা পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে শিশু জিসানকে। শুক্রবার (৯ মার্চ) রাত ১০টা ১০ মিনিটে জিসানকে (৫) উদ্ধার করে অচেতন অবস্থায় শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর ১০টা ২৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক গোলাম রব্বানী বলেছেন, ‘১০টা ২৫ মিনিটে আমাদের হাসপাতালে শিশু জিসানকে নিয়ে আসা হয়। আমরা তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছি-ডুবে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর ১০টা ৪০ মিনিটে আমরা তার পরিবার ও স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছি।’ 

জিসানের মায়ের আহাজারি

জানা যায়, মাগরিবের একটু আগে খেলার জন্য বাসা থেকে বাইরে যায় জিসান। এরপর অনেকক্ষণ তাকে খুঁজে পাওয়া যায় নি। পরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে বের হলে স্থানীয়দের কাছে জিসানের খালে পড়ে যাওয়ার তথ্য পায়। তারপর ফায়ার সার্ভিসকে ভবর দেওয়া হলে তারা এসে ১০টা ১০ মিনিটে খুঁজে বের করে জিসানকে। সেসময় জিসানের নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন। 

এই সেই খাল

ঘটনার প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী মালেক বলেন, ‘আমি দেখলাম- খালের ময়লার ওপর দিয়ে একটা বাচ্চা নামতেছে। কী যেন তুলতে চেয়েছিল। আমি দোকানে বসে দেখতেছিলাম। এর মধ্যে দেখি ডুবে যাচ্ছে, তখন আমার ভাতিজাকে বললাম- ধর ধর ডুবে যাচ্ছে। তখন চার জন মানুষ গিয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করে, এর মধ্যেই ডুবে যায় সে। এরপর আর তাকে কেউ খুঁজে পায়নি। ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিস। চার ঘণ্টা তল্লাশি করে খালের পাড়ের কংক্রিটের নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় শিশু জিসানকে উদ্ধার করে তারা।

এই খালেই নিখোঁজ হয়েছিল জিসান

জিসানের বোন রোক্সানা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আজ মাগরিবের একটু আগে বাসার সামনে খেলতে যায় জিসান। শিশুরা খালের পাশে ফুটবল খেলছিল। অনেক সময় পার হওয়ার পরেও সে ফিরছিল না। এরপর আমরা খুঁজতে বের হই। কিছুক্ষণ পর খালেরপাড়ের লোকজন বলাবলি করছিল- বাচ্চা পড়ে গেছে খালে। তখন আমি সবাইকে জিসানের ছবি দেখাই। তখন তারা বলেন- হ্যা এই বাচ্চাটা খালে বল তুলতে গিয়ে ডুবে গেছে। এরপর আমারর বাবা ও চাচারা সবাই খালে নেমে জিসানকে খুঁজতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আসে।

জানা যায়, জিসানের বাবার নাম মোস্তাফিজুর রহমান হাসু মিয়া। পেশায় গাড়ি চালক। গ্রামের বাড়ি ঘেরাডাঙ্গা, বালিয়াকান্দি, ফরিদপুর। ঢাকার নবোদয় হাউজিংয়ে ১৫-১৬ বছর ধরে থাকেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জিসান সবার ছোট। বড় বোনের নাম রোক্সানা আক্তার (১৪) ও বড় ভাইয়ের নাম রতন (১২)। 

আরও খবর: 

মোহাম্মদপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ শিশু জিসান অচেতন অবস্থায় উদ্ধার


মোহাম্মদপুরে খালে পড়ে শিশু নিখোঁজ, উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস