নিজ বাড়িতেই অপহৃতদের রেখে মুক্তিপণ আদায় করতো সেলিম

গ্রেফতার ১০ জনমানিকগঞ্জের হরিরামপুরের কালই গ্রামে তিনতলা একটি বাড়িতে অপহৃত ব্যক্তিদের জিম্মি করে রাখা হতো। বাড়িটি অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা সেলিম মোল্লার। মূলত তার নেতৃত্বেই বিভিন্নজনকে অপহরণ করে ওই বাড়িতে জিম্মি করা হতো। সোমবার (১২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

রবিবার (১১ মার্চ) রাতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ অপহরণকারী চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-২। পরে তাদের জিম্মা থেকে অপহৃত জাফর ইকবাল ও মিরাজ গাজীকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার অস্ত্র টাকাগ্রেফতারকৃতরা হলো সেলিম মোল্লা (৫০), রাজিবুল হাসান (২৭), তারেক হোসেন (৩১), রুহুল আমীন (৩৫), তুহিন বিশ্বাস (৩০), তারেক হোসেন (২৬), মোশারফ হোসেন (৪৭), আব্দুল রাজ্জাক (৩৫), নিরব আহমেদ (২৯) ও আবুল বাশার বিশ্বাস (৩৩)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি ও দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধার কর হয়।

মুফতি মাহমুদ খান বলেনহরিরামপুরের ঝিটকা এলাকার কালই গ্রামের অপহরণকারীদের মূলহোতা সেলিম মোল্লার তিনতলা বাড়িতে অপহৃতদের রাখা হতো। সেখানে টর্চার সেল ছিল। অপহরণকারীরাও ওই বাড়ির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বসবাস করতো।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গত ৯ মার্চ বেলা ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেট থেকে জাফর ও মিরাজ নামের দুজনকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় অপহরণকারীরা। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের মানিকগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা ধানমন্ডি যাওয়ার জন্য গাড়ি খুঁজতে গিয়ে এই অপহরণের শিকার হন। তারপর জাফরের মোবাইল ফোন থেকেই প্রথমে তার স্ত্রী ও পরে বোনের মোবাইলে ফোন দিয়ে এবং মিরাজের স্ত্রীর নম্বরে ফোন দিয়ে দুই পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

একপর্যায়ে জাফরের বোন অপহরণকারীদের কথামতো দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকা নগদ ও স্বাক্ষর করা খালি চেকের পাতা দেন। আর অপহরণের টাকা জমা দিতে মিরাজের স্ত্রীকে অপহরণকারী চক্রের সদস্য রাজীবের ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়া হয়। পরে ব্যাংক হিসাবের সূত্র ধরেই বিষয়টি তদন্ত শুরু করে বলে জানান মুফতি মাহমুদ।

মুফতি মাহমুদ খান আরও বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে লোকজনদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছিল। তাদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ করা হচ্ছে।