রাজধানীতে উল্টোপথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস

উল্টোপথে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতল বাসরাজধানীতে ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চলাচল করার জন্য ডিএমপি থেকে কড়া নির্দেশনার পরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি দ্বিতল বাস উল্টোপথে যেতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব, ১১-৫৮২৩) শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজধানীর কলাবাগান মোড় থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পর্যন্ত উল্টো যেতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িসহ প্রভাবশালীদের গাড়ি রাজধানীর রাস্তা দিয়ে প্রায়ই উল্টোপথে যেতে দেখা যায়। এ কারণে গত বছরের জুলাই মাসে ডিএমপি রাজধানীর সাত কলেজ এবং জগন্নাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য কড়া বার্তা দেয়। তারপরও থেমে নেই উল্টোপথে বাস চলাচল।

মঙ্গলবার বাসটি উল্টোপথে যাওয়ার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করলে কয়েকজন শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদকের কাছে এসে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বলেন, ‘আপনি ভিডিও করছেন কেন? এটা ক্লোজ করেন। আমাদের অসুবিধা আছে, আমরা ইউনিভার্সিটির গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি ভেতরে রোগী আছে। আপনি কি জিজ্ঞাসা করছেন কী সমস্যা আছে? ভিডিও বন্ধ করেন।’ এরপর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে সোজা পথে চলে যেতে দেখা যায় বাসটিকে।

এরপর সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসটি পৌঁছলে বাসটির সহকারী মো. মাঈনুদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী বাসটিতে ওঠেন। তাদের মধ্যে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ ছিলেন। তার মাথায় পানি ঢালা হচ্ছিলো। এ কারণে যানজট এড়াতে শিক্ষার্থীরা চালককে উল্টোপথে চালানোর জন্য বলেন। ওই অসুস্থ শিক্ষার্থীসহ তার সঙ্গে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা সাভারে নেমে গেছেন।’ উল্টো আসার কারণে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে ট্রাফিক সার্জেন্ট বাসটি আটকালে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ শিক্ষার্থীর কথা বলায় বাসটি ছেড়ে দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। 

এমন নিয়ম ভেঙে উল্টোপথে বাস যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘কী কারণে তারা উল্টোপথে এসেছে আমি খোঁজ নেবো। উল্টোপথে আসা উচিত হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যলয়ের বাস যাতে উল্টোপথে না যায় সে ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। তবুও অনেক সময় শিক্ষার্থীদের চাপে চালকরা উল্টোপথে যাতায়াতে বাধ্য হতেন। কিন্তু রাজধানীতে কড়াকড়ি আরোপ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। উল্টোপথে বাস পরিচালনার প্রবণতা কমেছে।'

গত বছরের ১৭ জুলাই বিকালে বাংলামোটর এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বাস উল্টোপথে ফার্মগেটের দিকে যেতে শুরু করে। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ ঠিক পথে বাস তিনটিকে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও চালকরা তা অমান্য করে উল্টোপথে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় সার্জেন্ট বাসকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা এসে তাকে মারধর করেন। ঘটনার পরদিন সার্জেন্ট কাওসার বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও প্রকাশ্যে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধরের অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজধানীর সাত কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে উল্টোপথে বাস চালানোর কারণ জানতে চায় ডিএমপি। এমনকি ভবিষ্যতে উল্টোপথে বাস না চালানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়। পরে উল্টোপথে বাস যাতায়াত করবে না বলেও অঙ্গীকার করে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ।

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বাংলা ট্রিবিউনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সোয়াইব রহমান সজীব)