পলিথিন নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র তরুণ নেতাদের যৌথ সংবাদ সম্মেলন



সংবাদ সম্মেলন

পলিথিনজাত পণ্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করাসহ পাটজাত পণ্য ব্যবহারের সুফল তুলে ধরতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ব্যানারে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে কয়েকজন তরুণ নেতা। রবিবার (১ এপ্রিল) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ সংবাদ সম্মেলন থেকে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের তৈরি পচনশীল ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।



‘মানবদেহ ও পরিবেশের উপর পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব এবং তা থেকে উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পলিথিনজাত পণ্য ব্যবহার করে তা যেখানে-সেখানে ফেলে আমাদের পরিবেশ আমরা নিজেরাই নষ্ট করছি। সরকার আইন করেছে কিন্তু তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও আমরা নিজেরা যদি পলিথিন ব্যবহারের পর তা ধ্বংস করে ফেলি বা পুড়িয়ে ফেলি তাহলে পরিবেশ দূষিত হবে না। তাই আমাদের নিজ নিজ সচেতনতার জায়গা প্রসারিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, রাজধানীতে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে চারটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সেই হিসাবে শুধুমাত্র ঢাকা শহরে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৪০ লাখের বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার শেষে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি আমরা পলিথিন ফেলে না দিয়ে ধ্বংস করি বা পুড়িয়ে ফেলি, অর্থাৎ মাটির সঙ্গে মিশতে না দিই তাতেও সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে। কেননা পলিথিন নষ্ট হয় না, ফলে মাটির গুণাগুণ নষ্ট করে দেয়। এছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরির প্রায় ২০০ কারখানা রয়েছে, যার বেশিরভাগই পুরান ঢাকায়। বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে আমদানি করা পলিপ্রোপাইলিন অবৈধভাবে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পলিথিনের মাধ্যমে মারাত্মক সব রোগের ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাত এবং ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। পলিথিন ব্যবহারের চর্মরোগ ও ক্যান্সারসহ আরও অন্যান্য জটিল রোগ আক্রমণ করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে চর্ম রোগের এজেন্ট হিসেবে খ্যাত এই পলিথিনকে রং করতে ক্যাডমিয়ামের প্রয়োজন হয়। আর এই ক্যাডমিয়াম যেকোনও সময় খাবারের সঙ্গে মিশে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সরকারকে প্রচলিত আইন বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়ে পাট ও কাপড়ের ব্যাগের প্রচলন বাড়াতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন বক্তারা। এছাড়া পলিথিনের বিকল্প হিসেবে জনসাধারণকে পাটের তৈরি পচনশীল ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান। যাতে ৭০ ভাগ পাটসহ ৩০ ভাগ অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত থাকে এবং যা এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে যায়।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক সিরাজুম মুনির টিপুর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাফরুহা মারফি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজমুন নাহার, ব্যারিস্টার শেখ মো. সামিউল ইসলাম প্রমুখ।