টিকা পাচ্ছে দেশের ৯৪ ভাগ শিশু

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আজ

nonameবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে দেশে শিশুদের টিকাদানের হার ৯৪ ভাগ। তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টিকা পাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭১ দশমিক ৮, যা ২০০০ সালে ছিল ৬৫ দশমিক ৫। অত্যাবশ্যকীয় ঔষধ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষকে। স্বাস্থ্য খাতের এমন সাফল্য নিয়ে শনিবার বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও সরকারিভাবে দিবসটি উদযাপিত হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা: সবার জন্য সর্বত্র।’

দিবসটি পালন উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সেমিনার আয়োজন, জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ, স্মরণিকা প্রকাশ, টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান, সড়কদ্বীপ সজ্জিতকরণ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, জারীগান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানেও দিবসটি উদযাপিত হবে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশের ৬৫ ভাগ মানুষকে অত্যাবশ্যকীয় ঔষধ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। মাতৃমৃত্যুর হার এখন প্রতি এক লাখে ১৭৬ জন যা ২০০০ সালে ছিল ৩৯৯ জন। প্রতি এক হাজারে নবজাতকের মৃত্যু ২০০০ সালে ছিল ৪২ দশমিক ৬। ২০১৫ সালে ২৩ দশমিক ৩-এ নেমে আসে। ২০০০ সালে পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি এক হাজার জনে ছিল ৮৮ যা ২০১৫ সালে ৩৭ দশমিক ৬-এ নেমে আসে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর পৃথিবীর ৮০ কোটি মানুষ তাদের পরিবারের মোট ব্যয়ের অন্তত ১০ শতাংশ চিকিৎসা খরচ হিসেবে ব্যয় করেছে। বছরে প্রায় ১০ কোটি মানুষ চিকিৎসা সেবার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অতি দরিদ্র হয়ে পড়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জন করতে হলে ২০২৩ সালের মধ্যে পৃথিবীর আরও ১০০ কোটি মানুষকে অতি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। চিকিৎসা সেবার ব্যয় বহন করতে গিয়ে বছরে যে প্রায় ১০ কোটি মানুষ অতি দরিদ্র হয়ে পড়ছে তার সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে জনগণ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে ১৩ হাজার ডাক্তার, ১৫ হাজার নার্স এবং ১৬ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বছরই নতুন ১০ হাজার চিকিৎসক, পাঁচ হাজার নার্স এবং ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।