বুধবার (১১ এপ্রিল) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার অপূর্ব কুমার বিশ্বাস।
পরে হুমায়ুন কবির পল্লব সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ৩০৭তম সিন্ডিকেট অধিবেশনে এমিরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা গৃহীত হয়। ওই নীতিমালার বিধি ২ (খ)অনুযায়ী এমিরিটাস নিয়োগের জন্য একই বিভাগে ২০ বছর অধ্যাপক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া, পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে একই বিভাগে ৩৫ বছর চাকরি করতে হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এমিরিটাস প্রফেসর নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থী। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ১৯৮৯ সালের এমিরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বিধিমালার ১(গ) বিধি অনুযায়ী নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে ১০ বছর অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকতে হবে বলে উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া, অন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয়েও ২০ বছর অধ্যাপক থাকার কোনও বিধান নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাকৃবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এমএ সাত্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রণীত বিধিমালার কারণে এমিরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগের জন্য বিবেচিত হননি। কারণ, তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে ১০ বছর ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে ১২ বছর অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু বিভাগ দু’টি একই অনুষদভুক্ত হলেও আলাদা বিভাগ হওয়ায় তিনি এমিরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পাননি।’
ফলে বাকৃবি’র বিধিমালার ২ (খ) বিধিকে চ্যালেঞ্জ করে ও এমিরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে গত ১১ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন এমএ সাত্তার।
সেই রিটের শুনানি করে একই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে ২০ বছর ও পূর্ণকালীন ৩৫ বছর কর্মের অভিজ্ঞতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না,তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। একইসঙ্গে অধ্যাপক এমএ সাত্তারকে বাকৃবির এমিরিটাস অধ্যাপক হিসেবে কেন নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চান হাইকোর্ট।