স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি থাকবে শিশুমৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা।’
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যালে জীবিত শিশুকে মৃত ঘোষণা করার ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তিন দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আজাদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করেন। এ কমিটিতে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে ইচ্ছুক বাইরের চিকিৎসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ব্যক্ত করেন তিনি। এই কমিটি সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে বলে জানান মহাপরিচালক। তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী রিপোর্ট তিন দিনের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
নাসিম আরও বলেন, ‘এই যেমন কানাডায় পথচারীদের ওপর গাড়ি দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছে। কানাডার মতো দেশেও এরকম হয়। তাই সবদেশে সবধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখনই ক্ষমতায় এসেছেন, একটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, তাহলো— মানুষের মৌলিক অধিকার। তিনি প্রায়ই আমাদেরকে প্রশ্ন করেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য আমরা কী কী করেছি? শিশুমৃত্যুর হার নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমাদের দেশের তৃণমূল পর্যায়ে আগের থেকে অনেক সচেতনতা বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তবে আমিও মনে করি, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই শিশু মৃত্যুর হার কমানো। আমি মনে করি, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পারলে, শিশুমৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা যাবে। ধাত্রিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হচ্ছে। তবে আমার শিক্ষিত সমাজের কাছে একটি প্রশ্ন— কেন আমরা এই আধুনিক যুগে সিজারিয়ান করানোর ঝুঁকি নেই? একবার সিজারিয়ান করা হলে প্রতিবারই করা লাগে। মেয়েরা নয় মাস বেদনা সহ্য করে আর প্রসব বেদনা নিতে চায় না, ভয় পায়।’
স্বাস্থ্য খাতে আরও বাজেটের প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবায় আমাদের এপর্যন্ত যে অর্জন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট না। আমাদের আরও অনেক দূরে যেতে হবে। সামনে বন্যা আসছে, বর্ষা আসছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন আছি।’
মন্ত্রী আরও বলেন,‘অভিভাবকদের দায়িত্ব নিতে হবে। ছয় মাস বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। মায়ের দুধ অমৃতের সমান। এটা থেকে অনেকে সরে আসেন,এ নিয়ে কেন ক্যাম্পেইন করতে হবে?’
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সিজারের কারণে মাতৃমৃত্যু বা শিশুমৃত্যু বাড়ছে,এমন নয়। তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু জন্মদানের সংখ্যা উদ্বেগজনক।’
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঞ্চালনায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি অশা তরকেলসন, সেইভ দ্য চিলড্রেন এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেকটর ইশতিয়াক মান্নান, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ সীমা সেনগুপ্ত, বাংলাদেশে ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মায়া ভ্যানডেনেন্ট, ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. জিয়াউল মতিন আলোচনায় অংশ নেন। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।