ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, স্বৈরতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ চিহ্নিত হবে জার্মানির সমীক্ষক দল দ্বারা, এ জন্য বাংলাদেশের জন্ম হয়নি। যারা যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্য তারা স্বৈরতান্ত্রিক দেশ বানাতে যুদ্ধে যাননি। রবিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কিচ্ছু নেই। পাঁচটি রাষ্ট্রকে স্বৈরতান্ত্রিক বলে চিহ্নিত করেছে জার্মানির সমীক্ষক দল, এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও প্রতিবাদ করা হয়নি। যার জন্ম মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, যে দেশ স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পালন করতে যাবে, সেই দেশে গণতন্ত্রের চরম অবমাননা করা হয়েছে।’
খালেদা জিয়ার দেশের রাজনৈতিক চরিত্রকে পাল্টে দেওয়ার ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “গত বছরের সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আমরা যখনই ক্ষমতায় আসি রাজনীতির চরিত্রটিকে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করবো। সুনীতি, সুশাসনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর বাইরে হিংসা-প্রতিহিংসা দূরে থাকবে। এগুলো আমাদের রাজনৈতিক পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও স্থানে থাকবে না।’ এজন্য তাকে আমরা ওইভাবেই দেখি।’ এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে তার (খালেদা জিয়া) যে সংগ্রাম সেটাও হলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। আমরা আশা করবো, আল্লাহ তাআলা তাকে ওই ক্ষমতা দিন, ওই ধৈর্য দিন। তার সঙ্গী-সাথী-কর্মীবৃন্দ অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য শক্তিশালী হয়ে উঠুক। এটা আমরা কামনা করবো প্রতিনিয়ত।’
একদিনের গণতন্ত্র চাই না উল্লেখ করে এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘তবে আমি এ দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি। আমার যারা ছাত্রছাত্রী বা তার সমতুল্য যেসব তরুণ আছে তাদের চেহারায় আমি ভয়ঙ্কর আলোড়ন দেখতে পাচ্ছি। একটা স্বপ্নের মতো। তার চায় এ দেশ একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিণত হোক, এটা যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত না হয়। আমরা জনগণের অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই। যে অধিকারের জন্য জনগণ বরাবর কষ্ট পেয়েছে, সংগ্রাম করেছে তাদের অধিকার তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে চাই। গণতন্ত্র তাদেরই ব্যবস্থা। ওই একদিনের গণতন্ত্র, ভোটের দিনের গণতন্ত্র—ওই রকম গণতন্ত্র চাই না।’
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম রশিদ দুলালের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমলেন্দু দাস অপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।