শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘উদ্বিগ্ন স্বজন ও নাগরিকবৃন্দ’র ব্যানারে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
দুই কন্যা সন্তানের মা মনিকা বড়ুয়া গত ১২ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ওইদিন সকালে বাসা থেকে গান শেখাতে বেরিয়ে আর ফেরেননি তিনি। মনিকা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দৈনিক পূর্বকোণের একজন সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিকের স্ত্রী।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেখছি এক এক মানুষ হঠাৎ করেই হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবেই তাদের হদিস দিতে পারছে না। কেউ কেউ ফিরে আসলেও বোবা হয়ে যাচ্ছে। মনিকার ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে তা আমরা মনে করছি না কিন্তু আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। গত ২২ দিনে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তার বিষয়ে কোনও আশ্বাস পাইনি। আমরা চাই সরকার তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেবে। কোনও নাগরিক যাতে এভাবে হাওয়া হয়ে না যায় সে ব্যবস্থা করবে।’
অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার আন্দোলনের অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসনাত করীম বলেন, ‘আমি জানি না কাল আমার জন্য এমন মানববন্ধন হবে কিনা। হতেও পারে। কারণ এই যে, বংলাদেশে আজ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে হঠাৎ করেই যে কেউ গুম হয়ে যাচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জাতীয় বাজেটের প্রতি এক টাকায় ২২ পয়সা ব্যয় হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। আজ নিরাপত্তার নামে যে টাকা খরচ করা হয় তা দিয়ে জনগণের নিরাপত্তাহীনতাই বেশি ঘটছে। দেশের একজন নাগরিক নিখোঁজ হতে পারে না। প্রশাসন কী করে?’
মানববন্ধনে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জীবনানন্দ জয়ন্ত বলেন, দেশে সরকারি দল ও রাষ্ট্র পরিচালনাকারীরা ছাড়া অন্য সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সরকার মনে করছে তারা ছাড়া আর কারও নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মনিকা বড়ুয়াকে খুঁজে বের করে দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এ দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।’