সোমবার (৭ মে) সকালে পুলিশ সদর দফতরে আইজিপি শবনম সুলতানাকে পুরস্কৃত করেন। এসময় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আইজিপি শবনমের এমন মানবিক কাজের প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে এই সেবা অব্যাহত রাখারও নির্দেশ দেন তিনি। শবনম সুলতানা এমন স্বীকৃতিতে আবেগ আপ্লুত এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি বেশি ভালো কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এরপর শবনমকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন আইজিপি।
এসময় বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান বলেন, ‘শবনম সুলতানা নিজ উদ্যোগে দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ ভ্যানের চালককে উদ্ধার করে ট্রাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি নিজে আহত গাড়ি চালককে সেবা দিয়ে মানবিক সেবার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তার এ মানবিক উদ্যোগের ফলে জনমনে পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বেড়েছে।’
ডিএমপির তেজগাঁও থানার সাব-ইন্সপেক্টর শবনম সুলতানা গত ২২ এপ্রিল শাহীনবাগ এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বেতার বার্তার মাধ্যমে সিভিল এভিয়েশন স্কুলের সামনে সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ পান। তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ ভ্যানের চালককে উদ্ধার করেন এবং একটি ব্রেকবিহীন গাড়ি চালিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখেন। শবনমের এ মানবিক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে, যা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। তাকে নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অসংখ্য প্রতিবেদন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তার সেবামূলক কাজের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়। বিষয়টি পুলিশ সদর দফতরেও নজরে আসে। এরপর পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ তাকে পুরস্কৃত করে।
সোমবার সকালে আইজিপির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ শেষে পাবনার মেয়ে শবনম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মানুষ হঠাৎ করে কোনও ভালো কাজ করতে পারে না। এর জন্য অনুশীলন বা চর্চার দরকার হয়। প্রতিদিন যদি আমরা একটা করেও ভালো কাজ করি, তাহলে বছর শেষে অনেকগুলো ভালো কাজ হবে। এভাবেই দেশ এগিয়ে যাবে। আমি আমৃত্যু মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’
শবনম ২০০১ সালে কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে সুযোগ পান। দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এখন পুলিশের উপপরিদর্শক হয়েছেন তিনি।
শবনম বলেন, ‘আমাদের পরিবার মানবিক। এই শিক্ষাটা আমি পরিবার থেকেই পেয়েছি। শৈশব থেকেই আমি এমন। শৈশবে পশুপাখির জন্যও আমার অনেক দরদ ছিল। এমনকি আমার পোষা কুকুর অসুস্থ হলেও তাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে যেতাম।’
আইজিপির কাছ থেকে পুরস্কার নিয়ে অনেক খুশি হয়েছেন শবনম। তিনি বলেন, ‘আমার চাকরি জীবনে কখনও আইজিপি স্যারদের সঙ্গে এভাবে কথা বলার সুযোগ হয়নি। আর আজকে আমার জন্যই সব আয়োজন। এজন্য আমি পুলিশ বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ। আজকে আমার মনে হয়েছে, পুলিশে প্রবেশ করে আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম। আইজিপি স্যার আমাকে দোয়া করেছেন। অনেক পরামর্শ দিয়েছেন, ভালো কাজ করার সাহস জুগিয়েছেন।’
কোনও কাজই ছোট না উল্লেখ করে শবনম বলেন, ‘আমি প্রশসংসার জন্য কোনও কাজ করিনি। আমার পরিবারও এমন কাজে অবাক হয়নি। কারণ পারিবারিক পরিমণ্ডলে আমি এমনই। সবাই তা জানে। তবে পুরস্কার ভালো কাজের আরও দায় বাড়িয়ে দেয়। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো, এভাবে ভালো কাজ করে যেতে চাই।’
ব্যক্তিগত জীবনে শবনম সুলতানা বিবাহিত। তার স্বামীও পুলিশে কর্মরত। দুই সন্তানের লালন-পালনের পাশাপাশি সব শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
শবনমের এমন মানবিক কাজের জন্য ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, গুলশানের উপকমিশনার মোশ্তাক আহম্মেদসহ অনেকেই তাকে পুরস্কৃত করেছেন।