বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ডের কার্যক্রম আরও ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১০ মে) রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও অ্যাকর্ডের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এতথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লোবাল ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব জেনি হোল্ডক্রাফট ও এলসি ওয়াইকিকির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড সাউথহল, অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য এইচঅ্যান্ডএম’র জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্ল গার্নার ফার্গলিন, বিজিএমইএর সহসভাপতি ফারুক হাসান ও মাহমুদ হাসান খান, শ্রমিকনেতা রায় রমেশ চন্দ্র, আমিরুল হক আমিন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘অ্যাকর্ডের পাঁচ বছরের মেয়াদ চলতি মাসে শেষ হয়ে যাবে। তাদের কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। তাই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আরও ছয় মাসের জন্য অ্যাকর্ডের মেয়াদ বাড়িয়েছে। এই ছয় মাস কার্যক্রম চালানোর জন্য সরকার সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন তদারকি কমিটি (টিএমসি) গঠন করেছে। এতে সরকার, ব্র্যান্ড, শ্রমিক প্রতিনিধি, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র প্রতিনিধি রয়েছে।’
গত মাসে অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার অ্যাকর্ডের মেয়াদ বাড়িয়েছে।’ ফলে আদালতের বিষয়টিও সরকার দেখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাকর্ডের পক্ষে লিখিত বিবৃতিতে এলসি ওয়াইকিকির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড সাউথহল বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিতে বাংলাদেশ সরকার সম্মতি দিয়েছে। এ ছাড়া কারখানা পরিদর্শন ও সংস্কারকাজ চালানোতে সক্ষম একটি জাতীয় সংস্থার কাছে অ্যাকর্ডের কার্যক্রম তুলে দিতে টিএমসি নামে যৌথ কমিটি গঠন করেছে। ৬ মে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানাপ্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স গঠিত হয়। পাঁচ বছরের জন্য গঠিত এই কার্যক্রমের মেয়াদ চলতি মাসে শেষ হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে অ্যাকর্ডের সদস্য ১৬২০টি পোশাক কারখানার ত্রুটি দূরীকরণ ও সংস্কারকাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, অ্যালায়েন্সের সদস্য ৬৬৪টি কারখানার ত্রুটি ও সংস্কারকাজ প্রায় ৮৯ শতাংশ শেষ হয়েছে।