কোটা বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে শাহবাগে এ অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রায় হাজার খানেক শিক্ষার্থী। নানা প্ল্যাকার্ডে আন্দোলনের বার্তার পাশাপাশি ফুল দিয়ে রাস্তায় দাবি ‘প্রজ্ঞাপন চাই’ লিখেছেন তারা। একইসঙ্গে ফুল দিয়ে লেখা হয়েছে ‘৫২’, ‘৭১’ ও ‘১৮’।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের এই আন্দোলনকে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। তাই ফুল দিয়ে আন্দোলনের সমর্থনে ‘৫২’, ‘৭১’ এবং ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতীকী স্বরূপ ফুল দিয়ে ‘১৮’ লেখা হয়েছে।
ফুল দিয়ে লেখার কাজে নিয়োজিত এক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মুখের কথায় তারা এখন আর বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাই অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। তাদের আন্দোলন ছাত্র সমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আসিফুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এটি বাতিল ঘোষণা করলেও তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়নি। আমরা এ জন্য বরাবার সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু কালক্ষেপণ করা হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীদের এ অবস্থানের কারণে শাহবাগ মোড়ে চার দিক থেকে আসা যানবাহনগুলো আটকা পড়েছে। পল্টন থেকে শাহবাগে নতুন করে কোনও যানবাহন আসতে পারছে না। তবে জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও ফার্মগেট রুটের যানবাহন মিন্টো রোড দিয়ে বাংলা মোটর হয়ে যাতায়াত করছে। শাহবাগকে ঘিরে আশপাশের এলাকায় প্রচুর যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেওয়ার পরও প্রজ্ঞাপন জারি করতে দেরি করে করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ছাত্রসমাজকে উসকে দিচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
স্লোগানে শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘আর নয় কালক্ষেপণ, দ্রুত চাই প্রজ্ঞাপন’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন বলে জানা যায়। এছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও এই ধর্মঘট চলছে।
আরও পড়ুন: শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের, তীব্র যানজট