দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে শুরু হওয়া ‘খুলনা টু গাজীপুর, কতদূর’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এসব কথা বলেন।
হারুন উর রশীদ বলেন, ‘নির্বাচন ফেয়ার হলো কিনা, তা বুঝতে হলে এর প্রক্রিয়া শুরু থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত টোটাল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেই হয়। প্রথমে প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছিলেন, অথচ সেই অভিযোগের কিন্তু সেই অর্থে কোনও সুরাহা হয়নি। কিন্তু ইলেকশন কমিশনের আইন অনুযায়ী তদন্তে যদি অভিযোগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা। ফলে প্রথমেই নির্বাচন কমিশন অস্বচ্ছ ও অনৈতিক কাজ করলো। এরপর আসি গ্রেফতারি বিষয়টি নিয়ে। প্রশ্নটা হলো, সারাদেশে ওয়ারেন্ট ও গ্রেফতার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে, বিশেষভাবে যখন নির্বাচনের সময় বিশেষ ব্যক্তিদের, যারা দলীয় লোকজন, তখন তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং এগুলো চোখে পড়ে, তখন নির্বাচনকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করে। এমন গ্রেফতারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গ্রেফতার করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, “খুলনা নির্বাচনে তিনটি সেন্টার বাতিল হয়েছে, অমি এটা খুব বেশি বড় ঘটনা মনে করি না। কিন্তু আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়, কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট সংকট হয়েছে। এই সংকটের কারণটা কী? আমি একটু বোঝার চেষ্টা করেছি। কারণ, কেন্দ্রে কত ভোটার সে অনুযায়ীই তো ব্যালট পাঠানো হয়। আর এই ব্যালট সংকট একাধিক কেন্দ্রেই দেখা গেছে। এটা কী কারণে? এটা আমার কাছে খুবই বড় একটি ঘটনা বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে খবরও প্রকাশিত হয়েছে, ‘আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে, আপনি বাড়ি চলে যান’। তাহলে এই ভোট কাকে দেওয়া হয়েছে? ফলে মানদণ্ডের অর্থে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”
বিশিষ্ট এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘ওখানে বেশ কিছু সাংবাদিককে নির্বাচনের খবর কাভার করার জন্য কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও কিছু ব্যক্তিকে কার্ড দিয়েছে, যারা সাংবাদিক না। যারা বিভিন্ন কেন্দ্রে একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করেছে। এরা তাহলে কারা? যারা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে তারা ওয়ার্ক করেছে। এটা ওখানকার মেইনস্ট্রিম সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদও করেছেন।‘
খুলনার নির্বাচনে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে হারুন উর রশীদ আরও বলেন, ’মঞ্জু সাহেব নির্বাচন নিয়ে অনেক আওয়াজ দিয়েছেন, মাঠে ছিলেন। তবে সে অর্থে বিএনপির অবস্থান একটু নড়বড়ে ছিল। তাদের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের খুব একটা মাঠে দেখা যায়নি। তবে এটা ঠিক যারা নির্বাচনে জয়লাভ করেছে তারা স্ট্রিমরোলারকে উপেক্ষা করেই জয়লাভ করেছে।’
বৃহস্পতিবার (১৭ মে) বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হওয়া বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ দেখা যায় এ বৈঠকি।