অগ্রিম টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে কমলাপুর স্টেশনে অতিরিক্ত তিনটি কাউন্টার খোলা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৬টি কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলবে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত।
সকালের টিকিট নিশ্চিত করতে খবরের কাগজে ঘুম
ঈদযাত্রায় ট্রেনে নিজের আসন নিশ্চিত করতে অগ্রিম টিকিট কিনতে আগের দিন রাত থেকে টিকিটপ্রত্যাশীদের লাইন বসেছে কমলাপুর স্টেশনে। অন্তত দুই শতাধিক টিকিটপ্রত্যাশী মধ্যরাতেই লাইন দিয়েছেন কাউন্টারগুলোর সামনে। কাউন্টার খুলবে সকাল ৮টায়। আগের এ সময়টা তারা শুয়ে-বসে সময় পার করছেন স্টেশনে। কেউ কেউ গা এলিয়ে দিয়েছেন পুরনো খবরের কাগজ বিছিয়ে। অনেকে মত্ত আড্ডায়।
উজ্জ্বলদের মতো আরও শতাধিক মানুষ অগ্রিম টিকিটের লাইনে অবস্থান নিয়েছেন।
তৎপর আইনশঙ্খলাবাহিনী
অগ্রিম টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের হয়রানি ঠেকাতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। এরমধ্যে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীও আছে। স্টেশনে বাইরের অংশে ও প্লাটফরমের ভেতরের অংশে র্যাব, রেলওয়ে পুলিশ ও আরএনবির সদস্যদের নজরদারি করতে দেখা গেছে।
আরএনবির এএসআই ফরহাদ সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আরএনবির সদস্যরা তিনটি শিফটে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির দিনগুলোতে বিশেষ ডিউটি করবেন। প্রতিদিন প্রত্যেক শিফটে প্রায় ১৫-২০ জন কাজ করবেন।’
তিনি জানান, কাউন্টার দেখভাল, পুরো স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরএনবি কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘কালোবাজারিরা যেন টিকিট কাটতে না পারে তার পাশাপাশি কাউন্টারের লাইন সুশৃঙ্খল রাখতে আমরা কাজ করছি।’
স্টেশনের একেবারে সামনেই বিশেষ বুথ করা হয়েছে র্যাবের পক্ষ থেকে। দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, অগ্রিম টিকিট বিক্রি নিশ্ছিদ্র করা, ছিনতাইরোধ, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, কেউ যেন দালালদের খপ্পরে না পড়ে সেজন্য র্যাবের এই বিশেষ ডিউটি।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি যতদিন চলবে, ততদিন তাদের বিশেষ ডিউটি চলবে। প্রত্যেক দিন তিনটি শিফটে চব্বিশ ঘণ্টাই স্টেশনের ভেতরে সাত-আটজন এবং নিয়মিত বাহিনীর টহল চলবে স্টেশনের চারপাশের এলাকায়।
রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্টেশনের সামনে ও প্লাটফরমের ভেতরে বিশেষ বুথ বসানো হয়েছে। ১ জুন থেকে চব্বিশ ঘণ্টা বুথগুলো সচল থাকবে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে কথা হয় কনস্টেবল ফজলুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ করছি পরিস্থিতি ঠিকঠাক রাখতে।’
সরেছে পত্রিকার স্টল, তবে পরিবেশ এখনও নোংরা
ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির জন্য স্টেশনে ভেতরের অংশে ৪টি পত্রিকার স্টল সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে স্টলগুলো সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে প্রতিদিনের পত্রিকা বিক্রির জায়গা থেকে জরুরি জিনিসপত্রগুলো ভ্যানে সরিয়ে নিচ্ছিলেন হকার আবদুল হান্নান। তিনি বলেন, ‘ছয় দিনের জন্য সরাতে হইতেছে। এখানে আমি ছাড়াও আবদুল আলী, আবু তাহের ও খোকনের স্টল আছে।’
তবে স্টেশনের পাশ থেকে পত্রিকার স্টল সরানো হলেও স্টেশনের পরিবেশ নিয়ে এখনও কাজ শুরু হয়নি। স্টেশনের ভেতরে-বাইরে অসংখ্য কুকুর অবস্থান করায় টিকিটপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। স্টেশনের মূল ভবনের সামনে, পেছনে, প্লাটফরমে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে রাখা হয়েছে।
স্টেশনের একটি সূত্র জানায়, এই ময়লা পরিষ্কার ও পরিবেশ ঠিক রাখার দায়িত্ব রেলের মেডিক্যাল বিভাগের। যদিও বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এই বিভাগের কাউকেই স্টেশনে পাওয়া যায়নি। আরএনবির একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্টেশনের এসব বিষয় দেখভাল করার জন্য মেডিক্যাল বিভাগ আছে, তারা এটার দেখাশোনার দায়িত্বে আছে।
এছাড়া স্টেশনের ভেতরে-বাইরে রয়েছে অসংখ্য ছিন্নমূল মানুষ। যাদের কেউ কেউ প্লাটফরমে ঘুমুচ্ছে।
রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যাত্রীদের জন্য ট্রেনের টিকিটের সংখ্যাসহ বিস্তারিত ঘোষণা সাঁটানো হয়েছে। এছাড়া ঈদের অগ্রিম টিকিট কোনোভাবেই ফেরতযোগ্য নয়, এমন ঘোষণাও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদের আগে-পরের ১০ দিনের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে আজ সকাল ৮টা থেকে পাওয়া যাবে আগামী ১০ জুনের (রবিবার) টিকিট। এরপর ক্রমান্বয়ে ২ জুন থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ১১ থেকে ১৫ জুনের ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে। প্রতিদিন সকাল ৮টায় কাউন্টার খুলবে বলে জানান কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী।
এছাড়া, ঈদফেরত যাত্রীদের ভ্রমণের জন্য অগ্রিম টিকিট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে বিক্রি করা হবে। এইসব স্টেশনে ১০ জুন পাওয়া যাবে ১৯ জুনের টিকিট। এরপর ১১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ২০ থেকে ২৪ জুনের টিকিট মিলবে।