‘ধর্ষণ প্রতিরোধে আইনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে’

২২২

ধর্ষণ প্রতিরোধে আইনকে আরও শক্তিশালী করা এবং দ্রুত বিচার আইনে ধর্ষণের মামলা নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছেন পেশাজীবীরা। এ দাবিতে শনিবার (২ জুন) বেলা ১১ টার দিকে এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকার সামনে এক মানববন্ধন ও সমাবেশ আয়োজন করেছে ‘ধর্ষণ প্রতিরোধ যাত্রা (অ্যান্টি রেপ মার্চ ফোরাম)’।

মানববন্ধনে ধর্ষণ বন্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ কথা বলেছেন বক্তারা। তারা বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতিবাদ করার জন্য সর্বস্তরের জনগণকে একত্রিত করতে হবে। ধর্ষণের পরিমাণ বেড়েই চলছে এবং এর প্রতিরোধে কার্যকর সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন প্রয়োজন। ধর্ষণ প্রতিরোধে আইনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’

৩৩৩

বক্তারা আরও বলেন, ‘ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে সামাজিক অনুশাসন আরও শক্তিশালী করতে হবে, যা ধর্ষণ প্রতিরোধে সহায়তা করবে। ধর্ষণ বন্ধে পারিবারিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।’ 

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, ‌‘ধর্ষণ একটা মারাত্মক ব্যাধি। এটা দূর করতে রাষ্ট্রের যে আইন-কানুন আছে তাই যথেষ্ট নয়। এটা একটা সামাজিক ব্যাধি। এর মনস্তাত্ত্বিক দিক আছে। নারীর ওপর পুরুষের ক্ষমতা প্রদর্শনের দিক আছে। এই সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধিগুলো দূর করার জন্য সমাজের সচেতন মানুষদের গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সামাজিক ব্যাধি ও দূষণ দূর হতে পারে।’

উন্নয়নকর্মী ফেরদৌস আরা রুমী বলেন, ‘ধর্ষণের ধারাবাহিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আজকে আমরা বিপণীবিতানের সামনে দাঁড়িয়েছি। কারণ আমরা দেখেছি যে বিপনীবিতানগুলোতেও যৌন হয়রানি বেড়ে চলছে। সারা দেশের মানুষ যদি এর প্রতিবাদে সোচ্চার না হয় তাহলে ধর্ষণ বন্ধ হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরো রমজান মাসে আমাদের কর্মসূচি থাকবে বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটকেন্দ্রিক। কারণ এসময় শপিং মলগুলোতে নারীদের সমাগম বেশি হয়, তাই এখানে অনেকেই যৌন হয়রানির শিকার হয়। ধর্ষণ বন্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া উচিত। এজন্য সারাদেশব্যাপী গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

মানববন্ধনে ধর্ষষবিরোধী প্ল্যাকার্ড দেখানো হয়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল- ‘ধর্ষককে প্রতিহত এবং প্রতিরোধ করতে হবে’, ‘আগে ধর্ষণ বন্ধ করুন পরে ভোট চান’, ‘ধর্ষণ বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আগে, ভোট পরে’, ‘ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না; নারী মানুষ, ভোগ্যবস্তু নয়’, ‘ধর্ষককে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বয়কট করুন’, ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’, ‘বিপনী বিতানে যৌন হয়রানি রুখে দাঁড়াও’, ‘ধর্ষণের বিচার উপযোগী আইনি কাঠামো চাই’।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন