মানবতাবিরোধী অপরাধ: মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে রিয়াজ উদ্দিন ফকিরের আপিল

রিয়াজ উদ্দিন ফকির (ফাইল ছবি)

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার আলবদর বাহিনীর প্রধান রিয়াজ উদ্দিন ফকির। বৃহস্পতিবার (৭ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন রিয়াজ উদ্দিনের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালাস চেয়ে রিয়াজ উদ্দিনের পক্ষে আপিল দায়ের করা হয়েছে। আপিলের  নম্বর পড়েছে (২১/২০১৮)।’

এর আগে গত ১০ মে মানবতাবিরোধী অপরাধে আসামি রিয়াজ উদ্দিন ফকিরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

ওই রায়ের পরে মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন জানিয়েছিলেন, দু’টি অভিযোগে যাবজ্জীবন এবং দু’টি অভিযোগে তাকে (রিয়াজ উদ্দিন ফকির) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় তিন আসামির মধ্যে ফুলবাড়িয়ার রাজাকার বাহিনীর প্রধান আমজাদ আলী গ্রেফতারের পর ও রাজাকার ওয়াজ উদ্দিন পলাতক অবস্থায় মারা যান। এজন্য তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রিয়াজের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২২ আগস্ট থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ফুলবাড়িয়া উপজেলার বেবিট্যাক্সি স্ট্যান্ড, রাঙ্গামাটিয়া ঈদগাহ সংলগ্ন বানা নদী, দিব্যানন্দ ফাজিল মাদ্রাসা, ফুলবাড়িয়া ঋষিপাড়া, আছিম বাজার ও ভালুকজান গ্রামে তিনি এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিলেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর রিয়াজ ও ওয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ওই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিন আসামির বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে তদন্ত সংস্থা। এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তৈরি করে ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দাখিল করেন প্রসিকিউশন।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ১ বছর ৪ মাস ৭ দিনে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট আমজাদ ও রিয়াজকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশরগঞ্জ ও ভালুকজান গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরদিন ১২ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করার উদ্দেশে ময়মনসিংহ থেকে দুই আসামিকে নিয়ে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যান। এতে চার পুলিশ ও আসামি আমজাদ গুরুতর আহত হন। পরে আমজাদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে তিনি মারা যান।

এদিকে, পলাতক অবস্থায়ই ওয়াজ উদ্দিনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় অভিযোগ গঠনের পরে। গ্রেফতারকৃত রিয়াজ উদ্দিন ফকিরকে সেফহোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভালুকজান গ্রামের শহীদ তালেব মণ্ডলের ছেলে খোরশেদ আলী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার বাবা তালেব মণ্ডলকে আখিলা নদীর ব্রিজের ওপর দাঁড় করে গুলি করে হত্যা করেন থানা রাজাকার বাহিনীর প্রধান আমজাদ ও আলবদর বাহিনীর প্রধান রিয়াজ ফকিরের নেতৃত্বে ওয়াজউদ্দিনসহ অন্য রাজাকাররা। এ ছাড়া, মামলায় বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমজাদ আলী, রিয়াজ উদ্দিন ফকির ও ওয়াজউদ্দিন হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধে নেতৃত্ব দেন। আছিম বাজারের  যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু মানুষকে হত্যা ও পাটিরায় দুই হিন্দু নারীকে ধর্ষণের অভিযোগও করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।