‘ঈদ বাজারে ৫ কোটি টাকার জালনোট ছাড়ার টার্গেট ছিল’

উদ্ধার জাল নোট ঈদকে কেন্দ্র করে ৫ কোটি টাকার জালনোট বাজারে ছাড়ার টার্গেট ছিল জালিয়াতদের। তাদের মধ্যে ১০ জনকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (৮ ‍জুন) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) দেবদাস ভট্টাচার্য্য একথা জানান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর কদমতলীর বউবাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে জালনোট ছাপার সঙ্গে জড়িত চক্রের ১০ জনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। আটকরা হলো রফিক, জাকির, হানিফ, রাজন শিকদার, খোকন, রিপন, মনির, সোহরাব, জসিম ও লাবণী।

গ্রেফতার ১০ জনএ সময় তাদের কাছ থেকে ১ কোটি টাকার জালনোট, জালনোট তৈরির সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সুতা, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, কাগজ ও কালি উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কদমতলী থানায় করা এক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘ঈদ টার্গেট করে বাজারে ৫ কোটি টাকার জালনোট ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তারা এতে সফল হতে পারেনি। আমার বাজারে এই টাকাগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই তাদের গ্রেফতার করেছি।’

জাল নোট তৈরি সরঞ্জামএ ধরনের আরও ৮-৯টি জালনোট তৈরির চক্র রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েকটি গ্রুপ ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, যে পরিমাণ জালনোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, তা দিয়ে আরও ৩-৪ কোটি টাকার জালনোট তৈরি করা সম্ভব। এসব টাকা পাইকারি বিক্রেতাদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিত চক্রটি।

জালনোটের বাজার দর সম্পর্কে গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে দেবদাস ভট্টাচার্য্য জানান, এক লাখ টাকার জালনোট তৈরিতে খরচ ১০ হাজার টাকা। পাইকারি বিক্রেতার কাছে এই এক লাখ টাকা বিক্রি করা হয় ১৪-১৫ হাজার টাকা। পাইকারি বিক্রেতা এসব নোট খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেন ২০-২৫ হাজার টাকায়। প্রথম খুচরা বিক্রেতা এক লাখ টাকা দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকায়। দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতা এক লাখ টাকার জালনোট প্রায় সমপরিমাণ দামে মাঠপর্যায়ে বিক্রি করে থাকে।

এই জালনোট তৈরির প্রতারকচক্রটিকে আটকের অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবি উত্তরের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মহরম আলী জানান, এই চক্রের মূলহোতা রফিক। টাকার মধ্যে নিরাপত্তা সুতা বসানোসহ অন্যান্য সূক্ষ্ম কাজ করতো জাকির। বাকিরাও জালনোট তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত থাকে। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জালনোট তৈরির কাজ করে আসছিল।