চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ল

 

খালেদা জিয়া

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত  বাড়ল। বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) ঢাকার বকশী বাজার আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের সময় বাড়ানোর আবেদন করায় বিচারক তা মঞ্জুর করেন।

এ মামলায় জড়িত থাকা অন্য আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে বিদেশে গমন বিষয়ে সময়ের আবেদন করলে বিচারক তাও মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়,বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন কারান্তরীণ খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিত করেনি জেল কর্তৃপক্ষ। তবে শুনানিতে তার পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। মাত্র ৫ মিনিটের শুনানিতে বিচারক খালেদা জিয়া ও অন্য আসামি হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আবেদন দুটি মঞ্জুর করেন। দুদকের পক্ষে এর কোনও বিরোধিতা করা হয়নি। শুনানি শুরু হয় ১১.১০ মিনিট এবং শেষ হয় ১১.১৫ মিনিটে।

শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে অংশ নেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া,জিয়াউর রহমান প্রমুখ। অপর দিকে দুদকের পক্ষে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল উপস্থিত ছিলেন। মামলাটির বিচার কাজ পরিচালনা করছেন ড. আখতারুজ্জামান।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

মামলাটিতে খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারান্তরীণ রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগে ৩৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলায় তিনি জামিন পেলেও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এখনও জামিন না পাওয়ায় কারাগারের বাইরে বের হতে পারছেন না।