ঢাবিতে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের ছয় দাবি পেশ

নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে ছয়টি দাবি পেশ করেছে। বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা এসব দাবি তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বক্তব্যের সমালোচনা করে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ভিসি রাতে মেয়েদের চেঁচামেচি শোনেন কিন্তু ছাত্রলীগের পিস্তল, হাতুড়ি, রড, লাঠি, ছুরি ও চাপাতির শব্দ শোনেন না।’ এর আগে গত রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেছিলেন, ‘জঙ্গিদের বহিঃপ্রকাশ হলো তারা মহিলাদের ব্যবহার করে অশুভ কাজ সম্পাদন করে থাকে। মেয়েদের হলগুলোতে গভীর রাতে মেয়েরা উচ্চস্বরে চিৎকার দিয়ে মিছিল করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড হলো জঙ্গিবাদের বহিঃপ্রকাশ।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী অরণি সেমন্তী খান। লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ছয়টি দাবি তিনি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো ১. শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের অধিকারকে কোনোভাবেই খর্ব করা যাবে না। মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ সমাবেশের মতো আন্দোলনের গণতান্ত্রিক ধারাগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, কোনও ছাত্রসংগঠন বা পুলিশ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। ২. কোটা সংস্কারের আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং হামলায় আহতদের চিকিৎসার ভার রাষ্ট্রকে নিতে হবে। ৩. অহিংস মানববন্ধন ও মিছিলগুলোতে বিনা উস্কানিতে যারা হামলা করেছে তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সিট বণ্টনে ছাত্রসংগঠনের হস্তক্ষেপমুক্ত করে হল প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে। ৫. কোনও শিক্ষার্থীকে জোর করে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাধ্য করা যাবে না। ৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও প্রশাসক তার ওপর প্রদত্ত দায়িত্ব পালন না করে নিপীড়নমূলক অবস্থান নিলে তাকে অপসারণ করতে হবে।