এবি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার দ্রুত জামিন পাওয়া নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন

সুপ্রিম কোর্টদুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় গ্রেফতারের তিন ঘন্টা পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এবি ব্যংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হকসহ দুইজনের জামিন পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। বিচার শুরুর আগেই বিশেষ আইনের কোনো মামলায় বিচারিক হাকিম (জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট) আদালত কোনো আসামিকে জামিন দিতে পারে কিনা, তা নিষ্পত্তির জন্য গঠিত তিন বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির সময় এই প্রশ্ন তোলা হয়। প্রথম দিনের শুনানি শেষে আগামী ৯ আগষ্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চ ওই দুই কর্মকর্তার দ্রুত জামিন পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

১৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে গত ২৫ জানুয়ারি এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। মামলার পরদিন গ্রেফতার করা হয় ওয়াহিদুল হক ও ব্যাংকটির হেড অব ট্রেজারি আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও ব্যবসায়ী সাইফুল হককে। তাদের মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হলে আদালত ওয়াহিদুল হক ও মোস্তফা কামালকে জামিন দেন। আর সাইফুল হককে তিনদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নজরে আসার পর দুইজনের জামিন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ৩১ জানুয়ারি রুল জারি করেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। পাশাপাশি নিম্ন আদালতে থাকা মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠাতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ এপ্রিল এক আদেশে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের সুপারিশ করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেয় ওই হাইকোর্ট বেঞ্চ। এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতি জামিন সংক্রান্ত প্রশ্নের বিষয়ে শুনানির জন্য হাইকোর্টে তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন।

বৃহস্পতিবার আদালতে ওয়াহিদুল হকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আরশাদুর রউফ ও শেখ বাহারুল ইসলাম। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

শুনানির সময়ে দুই কর্মকর্তার দ্রুত জামিন প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেন, তারা কত সৌভাগ্যবান। গ্রেফতারের তিন ঘন্টার মধ্যে জামিন হয়ে গেছে। অথচ পত্র-পত্রিকায় খবর দেখি, অনেকে জামিনযোগ্য মামলায় জামিন পাচ্ছেন না।’