চাকরি হারাচ্ছেন জিএসকে ফার্মাসিউটিক্যালসের হাজার কর্মী

 


সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান এম আজিজুল হকবাংলাদেশে ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করছে ব্রিটিশ বহুজাতিক ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে)। তবে কোম্পানিটির কনজ্যুমার হেলথ কেয়ার চালু থাকবে। শুক্রবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলেন এ কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নকিবুর রহমান।



























এদিকে এ ঘোষণার পর চাকরি হারানোর আশঙ্কায় কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মীদের সম্মানজনকভাবে বিদায় জানানো হবে। তাদের নতুন চাকরি পেতে সহায়তা করা হবে।
293e54a7f437d16c61a314310f3affef-5b5a8d4eb5f40প্রতিষ্ঠানটিতে বিপণন ও উৎপাদন শাখা মিলিয়ে এক হাজার কর্মী রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জিএসকে বাংলাদেশে ফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবসা বন্ধ করলেও এর কনজ্যুমার হেলথ কেয়ার চালু থাকবে। জিএসকে সামাজিকভাবে ২০ ভাগ হেলথ কেয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার চালু রেখেছে, যা ২০২০ সাল পর্যন্ত চালু থাকবে। এর টিকাদান ভ্যাকসিন সরবরাহ চালু থাকবে। আমাদের সহকর্মী যারা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চাকরির ক্ষেত্রে তাদের সম্মানজনকভাবে বিদায় জানানো হবে। তাদের নতুন চাকরি পেতে সহায়তা করা হবে। তাদের এই দুঃসময়ে কোম্পানি তাদের সহযোগিতা করবে।’
তিনি বলেন, আমাদের কর্মীদের দক্ষতা রয়েছে। তাদের কাজ পেতে আমরা সহযোগিতা করবো। এ লক্ষ্যে আমরা জব ফেয়ার করতে পারি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম আজিজুল হক বলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক রিপোর্ট প্রকাশ করি। এখানে এর প্রফিটেবল সিনারিও দেখলে সেটা লাভজনকই মনে হবে। জিএসকে বাংলাদেশ থেকে উঠে যাবে না। এর একটা অংশ বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল জিএসকে বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটটি বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সকল কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্মান এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করতে এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে জিএসকে বদ্ধপরিকর।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো বাজারে বিপুল সংখ্যক ওষুধ মজুত আছে। সেগুলো বিক্রি না হলে ধীরে ধীরে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্যারাসিটামল, বেটনোভেট ক্রিম- এই ওষুধগুলোর মতো গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের সব ওষুধেরই জেনেরিক বিকল্প সহজলভ্য হয়েছে এবং মানুষের নাগালে পৌঁছে গেছে। তাই চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় সব ওষুধই সহজে পাওয়া যাবে। আমাদের ওষুধ বাজারে না থাকলেও তাতে কোনও প্রভাব পড়বে না।
এদিকে এই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে কর্মীদের মনে ক্ষোভ এবং হতাশা তৈরি হয়েছে। কর্মীদের ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোম্পানি বন্ধের প্রতিবাদ জানানো হবে বলে জানা গেছে।