শুধু পানি পান ও রক্ত গ্রহণে সতর্কতাই বাঁচাতে পারে হেপাটাইটিস রোগ থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি। চিকিৎসকেরা বলছেন, যেহেতু হেপাটাইটিস এ ও ই পানিবাহিত ও খাবারবাহিত রোগ এবং বি ও সি রক্ত সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায় তাই এ দুটি রোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতকর্তা জরুরি।
হেপাটোলজি সোসাইটি’র তথ্য অনুযায়ী, দেশে জন্ডিসে (একিউট হেপাটাইটিস) আক্রান্তদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ হেপাটাইটিস ই ভাইরাসে আক্রান্ত, ১৫ শতাংশ বি ভাইরাস, ৮ শতাংশ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। লিভার সিরোসিসের জন্য হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ৬০ শতাংশ, সি ভাইরাস ৩০ শতাংশ দায়ী। লিভার ক্যান্সারের জন্য হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ৬৫ শতাংশ এবং সি ভাইরাস ১৭ শতাংশ দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে রোগটি প্রতিরোধ ও নির্মূলে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হেপাটাইটিস নির্মূলে আমাদের কর্মসূচি রয়েছে। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে আমরা হেপাটাইসিস বি ভ্যাকসিন দেই। ২০০৫ সাল থেকে যে শিশুরা জন্মগ্রহণ করছে তারা এই সাফল্য পাচ্ছে। মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে। তারা নিজেরাও এই টিকা নিচ্ছেন। এছাড়া আমরা সবক্ষেত্রে ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করছি। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হয়। তবে সেলুন ও বিউটি পার্লারে এই রোগের ঝুঁকি থাকে। সেলুনে ব্লেড একাধিকবার ব্যবহার করা হলে ঝুঁকি থাকে। এক্ষেত্রে আমরা সচেতনতা তৈরিতে কাজ করি। যারা সিরিঞ্জের মাধ্যমে নেশা করে তাদের মধ্যে নিডলস শেয়ারিং হয়। এজন্য এনজিওদের আমরা বলি, এদের ব্যাপারে নজর দিতে।’ তিনি বলেন, হেপাটাইসিস সি-এর মাধ্যমেও ক্যান্সার হতে পারে। এই রোগের জন্য, আমরা গত অর্থবছর থেকে কিছু ওষুধ বিনামূল্যে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করছি।
বিএসএমএমইউ’র হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ‘যেহেতু হেপাটাইটিস এ ও ই পানিবাহিত ও খাবারবাহিত রোগ তাই এই রোগটি প্রতিরোধের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও খাবার খেতে হবে। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের উপায় হচ্ছে টিকা নেওয়া। হেপাটাইটিস সি ভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে রক্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এগুলো মেনে চললেই এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ’