বর্তমান বিচারব্যবস্থা বেশকিছু সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত: প্রধান বিচারপতি

 

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের বর্তমান বিচারব্যবস্থা বেশকিছু সমস্যার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত, যা শনাক্ত করা দরকার।’ তবে ভবিষ্যতে ওইসব সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে শিশু আদালতের মামলা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস (এসসিএসসিসিআর) ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘দেশের সব শিশু আদালত মিলিয়ে প্রায় ২১ হাজার ৫০৩টি মামলা নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা জজ ও দায়রা জজরা পদাধীকার বলে শিশু আদালতে বিচারক হিসেবে কর্মসম্পাদন করেন এবং নিজের দায়িত্বের বাইরেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। তবে মনে রাখবেন যে, বিচারের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত সময়ক্ষেপণ শিশু আদালতের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। কেননা, শিশুরা সামাজিক, মানবিক ও ধারণাগতভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় আলাদা হয়।’

আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে শিশু আদালতের বিচারকরা আরও কর্মক্ষম হবেন। শিশু আদালতের মামলা নিষ্পত্তিতে এটি একটি বিশেষ যন্ত্র হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে বিভিন্ন শিশু আদালতে অপেক্ষমাণ মামলাগুলোর তথ্য পাওয়া যাবে।’

শিশু আদালতের বিচারকদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘শিশু আদালতের মামলা নিষ্পত্তিতে অযাচিত সময়ক্ষেপণ এবং পুরনো মামলা নিষ্পত্তিতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে শিশু অপরাধীদের বিচার সম্পর্কে গভীরভাবে বুঝতে হবে। শিশু আদালতের বিচার অনানুষ্ঠানিকভাবে করতে হবে। সাধারণ আদালতগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, শিশু আদালত সর্বাধিক স্বাধীন ও আইনি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে অগ্রগামী। একটি শিশুর বিচার করতে গেলে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে এ ধরনের মানসিকতা শিশু আদালতের মামলা সময়মতো নিষ্পত্তি করতে সহযোগীতা করবে।’

সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি অন চিলড্রেন রাইটসের প্রশংসা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচারিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে শিশু অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি অন চিলড্রেন রাইটসের কার্যক্রম বিশদভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৩ সালের শিশু আইন গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই স্পেশাল কমিটি সন্তুষ্টির সঙ্গে ইউনিসেফ-এর সঙ্গে কাজ করে চলেছে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. জাকির হোসেন। এছড়া আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেইজবাদের, সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটসের চেয়ারম্যান ও আপিল বিভাগের বিচারপতি মুহাম্মাদ ইমান আলী প্রমুখ।