বসুন্ধরা এলাকায় অন্তত ২৫ শিক্ষার্থী আটক, আহত অর্ধ শতাধিক

বসুন্ধরায় পুলিশ-শিক্ষার্থী বচসা

দিনভর সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শেষে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতর থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এসময় পুলিশের ওপরে হামলার অভিযোগে ছাত্রদের ওপরে লাঠিচার্জও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় অন্তত ২৫ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে, পুলিশের রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জে নর্থ-সাউথ ও আইইউবি’র অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এদিকে, বাড্ডা-কুড়িল মহাসড়কে (বিশ্বরোড) যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরে এখনও যান চলাচল শুরু হয়নি। জগন্নাথপুর সড়ক দিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রবেশের প্রধান সড়কটি (গ্রামীণ ফোন কার্যালয়ের সামনে) বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত রয়েছে।

এদিকে, এ আন্দোলন থেকে নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সরে গেছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলাল আহমেদ। তিনি সন্ধ্যা সাতটায় বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের স্টুডেন্টরা অলরেডি ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছে। ক্যাম্পাস ফাঁকা।  ভিসি বুঝিয়ে স্টুডেন্টদের ক্যাম্পাস থেকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখন যারা বাইরে আছে তারা কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাইরে কারা আছে তা বলতে পারবো না। তবে সেখানে যদি নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির কেউ থেকে থাকে তাহলে তাদের কোনও সমস্যা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও দায় নেবে না।

বসুন্ধরায় পুলিশের অ্যাকশন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীদের হামলায় গুলশান পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহানুল,  ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান,  ও এক কনস্টেবল আব্দুর রউফ আহত হওয়ার পর বসুন্ধরায় পুলিশ মারমুখী হতে শুরু করে।

তারা জানান, বিকাল ৫ টার দিকে পুলিশ সদস্যরা যখন শিক্ষার্থীদের মাইকে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন তখন শিক্ষার্থীরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে এসে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং পুলিশ সদস্যদের দিকে তেড়ে আসতে থাকে। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তাদের ওপর লাঠি চার্জ করে। এসময় ওই ঘটনাস্থল থেকে তিন ছাত্রকে আটক করে পুলিশ। এরপর এই ঘটনায় আরও অনেককে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

গুলশান বিভাগের এডিসি আব্দুল আহাদ জানান, পুলিশের ওপর হামলা করার কারণে অনেককে আটক করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। তাদের সবাইকে থানায় পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বসুন্ধরা আবসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে পুলিশ

এদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বসুন্ধরায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।  তাদের ভাটারা থানায় পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অভিযোগ করেন, পুলিশ বিনা উস্কানিতে তাদের ওপর দিনভর কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। পরে লাঠিচার্জও করেছে। এসব ঘটনায় নর্থ সাউথ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়েছে। আহতদের অনেককে এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে করে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী।  

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বসুন্ধরা এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর দুপুর থেকেই থেমে থেমে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ কারণে ওই এলাকাসহ যমুনা ফিউচার পার্কে আসা ব্যক্তিরা ছিলেন দিনভর আতঙ্কে। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরাও পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে উভয়পক্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পর বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানালে ছাত্রদের সঙ্গে তাদের বাক-বিতণ্ডা হয়। এরপর পুলিশ মারমুখী আচরণ শুরু করলে বসুন্ধরার প্রবেশ পথ অর্থাৎ গ্রামীণ ফোন প্রধান কার্যালয়ের সামনের সড়ক ও নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি যাওয়ার পথটি ফাঁকা হয়ে যায়। বসুন্ধরা এলাকার ভেতরে এখনও বেশ কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়েছেন। তবে তারা আর তেমন সংগঠিত নয়। সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা পায়ে হেঁটে বসুন্ধরা এলাকায় প্রবেশ ও বেশ হতে পারছেন।

বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার আশরাফুল করীম জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।