ঈদের ছুটি উপভোগ করতে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছে শিশু-কিশোরসহ তাদের অভিভাবকরা। দিনভর হৈ-হুল্লোর করে চিড়িয়াখানার পরিবেশ মাতিয়ে তুলেছেন তারা। কিন্তু এর মধ্যেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন অতিউৎসাহীরা। বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘ-সিংহের খাঁচা ঘেঁষে অনেকে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন আবার কেউবা খাঁচা ধরে বনের রাজার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। অনেক খাঁচার সামনে নিরাপত্তা কর্মীদেরও দেখা মেলেনি।
দেখা গেছে, সঙ্গে থাকা নিজের শিশুকে নিয়েও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ঢুকে যাচ্ছে অনেকে। প্রথমে নিরাপত্তা বেস্টনি পার হয়ে খাঁচার পাশে ভিড় করেন দর্শণার্থীরা। সেখানে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। এক পর্যায়ে র্গজন শুরু করে পায়চারি করতে থাকে বাঘটি।
নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কেন বাঘের খাঁচার কাছে গেলেন জানতে চাইলে একজন বলেন, ‘ছবি তুলতে গিয়েছিলাম। অনেকেই যাচ্ছে তাই আমিও গেলাম।’
এদিকে আফ্রিকান সাদা সিংহের খাঁচার সামনেও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। দেখা যায়, দর্শনার্থীরা শিশু-সন্তানদের ওই খাঁচার বাইরে থাকা নিরাপত্তা বেস্টনির ওপড়ে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। নিরাপত্তা বেস্টনি টপকে খাঁচার গ্রিলের কাছে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন অনেকে। সিংহের খাঁচার গ্রিলের নেটের সঙ্গে মোবাইল ফোন ঠেকিয়ে ছবি তুলছিল তারা।
এসব ঘটনার একপর্যায়ে সেখানে দৌড়ে আসেন চিড়িয়াখানার নিরাপত্তা কর্মী মো. সাইফুল। বাঁশি দিয়ে সবাইকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।
দর্শনার্থীরা খাঁচার ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাতে চলে যাচ্ছে কিন্তু কোনও নিরাপত্তা কর্মী নেই কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাই কী করবো! এক খাঁচায় গিয়ে দর্শনার্থীদের সরিয়ে দেই, কিন্তু অন্য খাঁচার সামনে আবার একই অবস্থা হয়। তাদের বললেও কোনও কথা শোনে না।’
কালো ভাল্লুক, জিরাফ, কুঁমির খাঁচার পাশের একই অবস্থা দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দর্শনার্থীদের সচেতনতার অভাবে এমন ঘটনা ঘটছে। আমরা পুরো এলাকায় ২৬টি মাইক দিয়ে বারবার ঘোষণা করছি যাতে বন্যপ্রাণীর খাঁচার কাছে কেউ না দাঁড়ায় এবং তাদের কোনও প্রকার খাবার না দেয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকবল কম থাকার কারণে দুই-তিনটি খাঁচার দায়িত্বে একজন করে নিরাপত্তা কর্মীকে দেওয়া হয়। এছাড়াও চিড়িয়াখানার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমাদের ১৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের দ্বিতীয় দিন উপলক্ষে আজ প্রায় এক লাখ দর্শনার্থী এসেছে। আগামী দুই দিন আরও বাড়বে। এক সঙ্গে এত দর্শনার্থীকে নজরদারি করা আমাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে দর্শনার্থীরা সচেতন না হলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন।’