বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি আয়োজিত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস-২০১৮ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। কারাগারে থেকেও তিনি স্বাধীনতার প্রশ্নে একটুও পিছপা হননি। তাঁর নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালি জাতি ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল সূর্য। ৬ দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, এভাবে ধাপে ধাপে তিনি নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও শোষণ-বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই ছিল তাঁর আজন্ম লালিত স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধুর দর্শনই ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের মাধ্যমে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। এ কারণেই স্বাধীনতার পরপরই জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন একটি যুগোপযোগী অনন্য সংবিধান।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বর্তমান রাজনীতিবিদদের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনকে ঘাতকেরা হত্যা করতে পারেনি। তাই বঙ্গবন্ধু অমর ও অম্লান থাকবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। পরে জাতির পিতাসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বাবু মুকুল বোস, আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন এবং র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ।
মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. আতিউর রহমান। শোকসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার। এ সময় ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।