কোটা বাতিলের সুপারিশকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা

কোটা সংস্কার আন্দোলনপ্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সরকার গঠিত সচিব কমিটি। আর এই সুপারিশকে কোটা সংস্কারে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে সচিব কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।

সোমবার বিকাল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অবস্থান জানাবেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভায় সরকারি চাকরিতে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করার পরই বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয় শিক্ষার্থীরা।
জানতে চাইলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন চাকরিতে কোনও কোটা রাখা হবে না। প্রতিবন্ধী ও নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। আমরা তখন থেকে এখনও এই বিশ্বাস নিয়েই আছি। সরকার গঠিত সচিব কমিটি যে সুপারিশ করেছে তাকে নিশ্চয় ইতিবাচকভাবেই দেখছি। কিন্তু তা মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
অন্যদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এই সুপারিশকে সাধুবাদ জানাই। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কিন্তু নবম গ্রেড থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও ১৪তম গ্রেড থেকে ১৬তম গ্রেড পর্যন্ত কীভাবে কোটা রাখা হবে, কীভাবে সংস্কার করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানতে চায় ছাত্রসমাজ। এছাড়া প্রজ্ঞাপন জারি, হামলাকারীদের দ্রুত বিচার এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করলেই কেবল ছাত্রসমাজ সব ধরনের আন্দোলন থেকে সরে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘এই তিন দফা দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার ছাত্রসমাজ যে বিক্ষোভ কর্মসূচি ডেকেছে তা চলবে। প্রজ্ঞাপনসহ তিন দফা দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি থাকবে।’
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে প্রবেশে ৫৬ শতাংশ কোটা সংস্কার করে কমিয়ে আনার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।