মঙ্গলবার (০২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ আহমেদ।
পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত না করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এবং ইস্ট পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি অন্তর্ভুক্ত করে ইতিহাস বিকৃত করা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
অর্থ মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সচিবসহ ছয়জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই গ্রন্থে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গ্রন্থটি প্রকাশ ও বিলি শুরু হলে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি তৈরি ও প্রকাশনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ২০১৩ সালের জুন মাসে। এ বিষয়ে তখন উপদেষ্টা কমিটি ও সম্পাদনা নামে দুটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই দুই কমিটি পাণ্ডুলিপি চূড়ান্তের পর গ্রন্থটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি প্রকাশনার পরপরই এতে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যত্যয় ধরা পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর গ্রন্থটির বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং গ্রন্থটি রিভিউয়ের জন্য একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে রিভিউ কমিটি গঠন করেন।
রিটকারী আইনজীবী এসব প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মঙ্গলবার (০২ অক্টোবর) হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত অনুসন্ধান কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেন এবং রুল জারি করেন।