ঢাকায় মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলামহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনে বিশ্বের অবিসংবাদিত অনেক নেতা অনুপ্রাণিত হয়েছেন উল্লেখ করে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ‘বাংলাদেশেও মহাত্মা গান্ধীর আদর্শগত উপস্থিতি রয়েছে।’ মঙ্গলবার (০২ অক্টোবর) ভারতীয় হাইকমিশন এবং গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনটি আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবে পালিত হয়। ২০০৯ সালে জাতিসংঘ আজকের দিনটিকে ইন্টারন্যাশনাল ডে অব নন ভায়োলেন্স হিসেবে ঘোষণা করে। জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধার প্রতিফলন ঘটেছে। বিশ্বের অনেক নেতা যেমন নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং গান্ধীর অহিংস পথ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। গান্ধীর মতে অহিংসা হলো মানবশক্তির উৎস।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি অভিভূত হয়েছি সোমবার একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর বক্তব্য শুনে। বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী বলেছেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এ থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশেও মহাত্মা গান্ধীর আদর্শগত উপস্থিতি রয়েছে।’
ঢাকায় মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠানে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় বলেন, ‘সভ্যতার শুরু থেকে মানুষ সহিংসতা থেকে বের হয়ে এসে শান্তির সমাধান খুঁজেছে। গান্ধীজির বিশেষত্ব এখানেই, তিনি একটি পথ বের করেছিলেন যেটা পৃথিবীতে প্রয়োগ করে সফলতা অর্জন করেছেন। গান্ধীর অহিংস পথে চলার আগে গোটা পৃথিবী বুঝতে পারেনি যে মানুষের শক্তি শুধু হিংসায় নয়, মানুষের সব থেকে বড় শক্তি অহিংসায়। কারণ হিংসায় রক্তপাত হয়, অহিংস হলে ওই রক্তপাত বন্ধ হয়।’
পরে মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। গানের পাশাপাশি শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। এ সময় গান্ধীর ওপর নির্মিত ৪০ মিনিটের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ঢাকায় মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠানে গান্ধীর ওপর আয়োজিত আন্তঃ স্কুল কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে প্রথম হয় ডিপিএস এস টি এস স্কুল, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং তৃতীয় হয় একাডেমিয়া।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার ড. আদর্শ সোয়াইকা, প্রথম সচিব (রাজনৈতিক-১) নবনীতা চক্রবর্তী, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের বার্তা প্রধান রাহুল রাহা সহ বিশিষ্টজনেরা।